ডেস্ক:
চট্টগ্রাম শহরে জুলাই আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র, ছাত্রদের উপর গুলি চালানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা—সবকিছুই মুখ থুবড়ে পড়ল কোতোয়ালি থানা পুলিশের দৃঢ়তা ও সাহসিকতায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রাত সাড়ে সাতটায় জামাল খানস্থ আম্বিয়া শিরিন টাওয়ারে এক গোপন বৈঠক চলাকালীন সময়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেব এর সরাসরি নির্দেশনায় কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম ও এসআই নওশের এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে গ্রেফতার করা হয় দুই আলোচিত আসামি—ছাত্রলীগ মহানগর কমিটির সদস্য শিবু দাশ গুপ্ত এবং খুলশী থানার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মঈনউদ্দীনকে। শিবু দাশ গুপ্ত:ছাত্রলীগের নামে ত্রাস সৃষ্টি করা এই ব্যক্তি নগরীর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে এক আতঙ্কের নাম।বাবর ও রনির ঘনিষ্ঠ অনুসারী। তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০টির মতো মামলা রয়েছে। স্থায়ী ঠিকানা: হেম সেন লেইন, শরীফ কলোনি।বর্তমানে আত্মগোপনে ছিলেন আম্বিয়া শিরিন টাওয়ার, বিল্ডিং নং-২, ফ্ল্যাট I-4-এ। পুলিশের মতে, তিনি জুলাই আন্দোলনের দিন ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম। মো. মঈনউদ্দীন: পিতা: মো. হানিফ। খুলশী থানার মামলা নং ১৩, তারিখ ১৭/৬/২০২৫, তাতে ৪৬ নম্বর আসামি। নিজ এলাকা ঘাটফরবেগ থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করছিলেন আম্বিয়া শিরিন টাওয়ার, ফ্ল্যাট A-5-এ। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা। গোপন বৈঠকের ছক: বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ওই ফ্ল্যাটের ছাদে রাত ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল: ছাত্রদের উপর গুলি চালানো দেলোয়ার, চকবাজারের কুখ্যাত সন্ত্রাসী টিনু,একই এলাকার অপরাধী মহিউদ্দীন আদিত্য , ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন সহিংস ক্যাডার। কিন্তু পুলিশের হঠাৎ উপস্থিতি টের পেয়ে দেলোয়ার, টিনু ও আদিত্য সহ বেশ কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযান:এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ওসি আব্দুল করিম, যিনি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য যাচাই করে সাহসিকতার সাথে ছাদবদ্ধ বৈঠক ঘিরে ফেলে দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। এসআই নওশের তাঁর সহকারি হিসেবে অপারেশন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ জানান, “চট্টগ্রামে গোপন বৈঠকের নামে অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র যারা করবে, তারা কেউই রেহাই পাবে না। জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” জনমনে স্বস্তি, পুলিশের প্রশংসা: এই গ্রেফতার অভিযান সফল হওয়ায় চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুলিশ এখন আরও সক্রিয় ও দায়বদ্ধ। এই অভিযানে প্রমাণিত হয়েছে, যখন গোয়েন্দা তথ্য, সাহসিকতা ও নেতৃত্ব একত্রে কাজ করে, তখন অন্ধকারের শক্তি আর লুকিয়ে থাকতে পারে না।