কামাল উদ্দিন””
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের কাঠের নরম আলো ছায়া ফেলে রেখেছে এক গভীর মুহূর্তে—ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়লো সত্য ও স্পর্ধার মুখ। সামনে দাঁড়িয়ে আছেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তাঁর হাতে বলিষ্ঠ ভঙ্গি, চোখে প্রত্যয়, কণ্ঠে চাটগাঁইয়া ভাষার সহজ-অকপট প্রবাহ।
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চট্টগ্রাম আগমনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের ভেতরে তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন এক প্রতীক—সত্যভাষণের, নাগরিক চেতনার, ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের। সিএন বাংলা টিভির তরুণ রিপোর্টার প্রশ্ন করছিলেন পরপর, আর আপনি উত্তর দিচ্ছিলেন এমন এক স্বরে, যেখানে ইতিহাস, যন্ত্রণার দীর্ঘ ধ্বনি, আর প্রতিরোধের আগুন একাকার হয়ে গিয়েছিল। আপনি বলছিলেন, “আঁরা চাটগাঁইয়া, মাথা নোয়াইবার জাত না। ড. ইউনুসের মতো বিশ্বমানের একজন সম্মানিত মানুষ যখন চট্টগ্রামে আসেন, তখন কেবল অভ্যর্থনা নয়—আমরা তাঁরে লইয়া গর্ব করবার লাইগ্যা প্রস্তুত। চট্টগ্রামের দাবি চাটগাঁইয়া হতায় তুলবার এইটোই সময়।” এ সাক্ষাৎকার আর দশটা বক্তব্যের মতো নয়—এটি ছিল হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত এক নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা, যেখানে উচ্চারিত হচ্ছিল: “এই শহর আর পিছাইয়া থাকবো না। এই শহর চাই ন্যায্য সম্মান, স্বকীয়তা আর স্বপ্নপূরণের অধিকার।”
চট্টগ্রামের পাথুরে পথে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হাঁটছেন, তাঁদের চোখে এক চেনা জ্যোতি দেখা গেল আপনার মুখে। আপনিই সেই কণ্ঠ, যিনি লড়ছেন উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার পক্ষে। যিনি চাটগাঁইয়া ভাষার আঞ্চলিকতায় বিশ্বজনীন বার্তা তুলে ধরতে জানেন।
এই ছবিটি তাই শুধু এক সাক্ষাৎকার নয়—এ এক আলোকচিত্র, যা ধারণ করে রেখেছে চট্টগ্রামের আত্মা, একজন সচেতন নাগরিক নেতার স্বর, এবং ইতিহাসের এক চলমান প্রহর।