
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে কিছু কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাদের নাম উচ্চারণ করলেই মানুষের মনে ভেসে ওঠে সাহস, সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার প্রতিচ্ছবি। তারা শুধুমাত্র একটি থানার অফিসার ইনচার্জ নন; তারা হয়ে ওঠেন জনতার আস্থার প্রতীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা এবং আইনের শাসনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ঠিক তেমনই একজন দক্ষ, মেধাবী, চৌকস, নির্ভীক ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হলেন গোলাম সারোয়ার। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন— “পুলিশ ক্ষমতার জন্য নয়, পুলিশ জনতার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য।” বর্তমান সময়ে যখন পুলিশকে নিয়ে সমাজে নানা ধরনের আলোচনা, সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠে, তখন কিছু সৎ ও আদর্শবান পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের কর্ম, সততা ও জনসেবার মাধ্যমে পুরো বাহিনীর মর্যাদাকে উজ্জ্বল করে তোলেন। ওসি গোলাম সারোয়ার সেই বিরল কর্মকর্তাদের একজন, যিনি দায়িত্বকে কখনো চাকরি হিসেবে দেখেননি; বরং রাষ্ট্র, জনগণ এবং আইনের প্রতি পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে ধারণ করেছেন। বোয়ালখালীতে কঠিন সময়ের সাহসী নেতৃত্ব
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানায় তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এক অত্যন্ত সংকটময় সময়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, অপরাধ প্রবণতা এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তখন এলাকাজুড়ে বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে একজন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সহজ বিষয় ছিল না। কিন্তু ওসি গোলাম সারোয়ার নিজের দৃঢ় মনোবল, কঠোর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী পুলিশি কৌশল দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বোয়ালখালীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বুঝতেন—শুধু কঠোরতা দিয়ে পুলিশিং হয় না; মানুষের আস্থা অর্জনও জরুরি। তাই তিনি একদিকে যেমন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। তার নেতৃত্বে বোয়ালখালী থানায় পুলিশি কার্যক্রমে আসে নতুন গতি, নতুন শৃঙ্খলা এবং নতুন বিশ্বাস। আজও বোয়ালখালীর মানুষ তার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কারণ তিনি শুধু একজন ওসি ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক। ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশের নির্দেশনায় জনবান্ধব পুলিশিং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ-এর নেতৃত্বে জনবান্ধব ও আধুনিক পুলিশিংয়ের যে দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছিল, ওসি গোলাম সারোয়ার তা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আইনসম্মত নির্দেশনা মেনে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। একজন প্রকৃত পুলিশ কর্মকর্তা যেমন রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকেন, তেমনি জনগণের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকেন—এই ভারসাম্য বজায় রাখার অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে তার মধ্যে। তিনি কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি; বরং আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের কাছে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন।
চন্দনাইশে ইতিহাস গড়া এক পুলিশ কর্মকর্তা বোয়ালখালীতে দীর্ঘদিন সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর তাকে বদলি করা হয় চট্টগ্রামের আরেক গুরুত্বপূর্ণ থানা চন্দনাইশ থানা-এ। অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো নতুন জায়গায় সময় লাগবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু মাত্র চার মাসের মধ্যেই তিনি চন্দনাইশ থানায় এক নতুন পুলিশি ইতিহাস রচনা করেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধ দমন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা—সবকিছুতেই তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। তার আন্তরিকতা, সাহস এবং দায়িত্ববোধ দেখে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সহকর্মী পুলিশ সদস্যরাও মুগ্ধ হন। জেলা পুলিশের অপরাধ মূল্যায়ন সভায় তিনি একজন দক্ষ, মেধাবী, চৌকস ও নিষ্ঠাবান অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন। এটি নিঃসন্দেহে তার কর্মদক্ষতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। চন্দনাইশের মানুষ তাকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিল যে, বদলির সময় অনেকের চোখে অশ্রু দেখা গিয়েছিল। কারণ তিনি সেখানে শুধুই একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন না; ছিলেন মানুষের আপনজন। দেবীদ্বারে নিরপেক্ষ ও দক্ষ দায়িত্ব পালন পরবর্তীতে সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বদলি করা হয় কুমিল্লার দেবীদ্বার থানা-এ। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। আজকের বাস্তবতায় যেখানে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়, সেখানে ওসি গোলাম সারোয়ার নিজের সততা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ ওঠেনি। বরং সাধারণ মানুষ তার ন্যায়নিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। দেবীদ্বারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আবারও প্রমাণ করেন—একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তা চাইলে রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। রাজনৈতিক রোষানল ও সংগ্রামী জীবন একজন সৎ ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে অনেক সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। ওসি গোলাম সারোয়ারও এর ব্যতিক্রম নন। বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার রোষানলে পড়ে তাকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি চাকরি হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। সততা, মেধা, আত্মবিশ্বাস এবং পেশাগত দক্ষতা দিয়ে আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এটাই একজন প্রকৃত যোদ্ধার পরিচয়। সোনারগাঁও থানায় নতুন আশার আলো বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার অধীন সোনারগাঁও থানা-এর অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৬ এপ্রিল দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ঐতিহাসিক সোনারগাঁও শুধু বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদও। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওসি গোলাম সারোয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং থানাকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় মানুষের মধ্যে এখন এক ধরনের স্বস্তি কাজ করছে। তারা বিশ্বাস করছে—একজন অভিজ্ঞ, মানবিক এবং সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা তাদের থানার দায়িত্বে আছেন। সাংবাদিকবান্ধব ও মানবিক এক কর্মকর্তা আমি একজন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে তার সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি—তিনি একজন অত্যন্ত বিনয়ী, সহজ-সরল, সৎ ও মানবিক মানুষ। তিনি সাংবাদিকদের সম্মান করেন, মতামতকে মূল্য দেন এবং সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখেন। আবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। এই দুই গুণের সমন্বয় একজন প্রকৃত পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যেই দেখা যায়। সহকর্মীদের কাছেও তিনি অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। যারা তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা অনেকেই তাকে পুলিশিং শিক্ষার অনুপ্রেরণা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে মনে করেন। বনেদি পরিবার থেকে জনসেবার পথে নরসিংদীর এক সুপ্রতিষ্ঠিত বনেদি পরিবারে জন্ম নেওয়া ওসি গোলাম সারোয়ার পেটের দায়ে পুলিশে আসেননি। তিনি এসেছেন বিবেকের তাড়নায়, দেশসেবার আদর্শে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। তার চিন্তাভাবনায় রয়েছে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবিকতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা। তাই সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাকে আপন করে নেয়। আজ যখন সমাজে সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, তখন ওসি গোলাম সারোয়ারের মতো কর্মকর্তারা প্রমাণ করছেন—এখনও বাংলাদেশ পুলিশের ভেতরে অনেক ভালো মানুষ আছেন, যারা দেশ ও জনগণের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, দেবীদ্বার পেরিয়ে আজ সোনারগাঁওয়ে তিনি নতুন এক ইতিহাস রচনার পথে হাঁটছেন। আমার বিশ্বাস, তার সততা, সাহস, মেধা ও জনবান্ধব পুলিশিং একদিন বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। শুভকামনা ওসি গোলাম সারোয়ার। আপনার সাহস, সততা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে পড়ুক সোনারগাঁও থেকে সমগ্র বাংলাদেশে।