
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক নাম এসেছে—কিছু মানুষের পরিচয় কেবল শক্তি, পদ ও ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত থাকে; কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যারা ইতিহাসে পরিচিত হন সাহস, ত্যাগ, আদর্শ ও মানুষের প্রতি অটল দায়বদ্ধতার কারণে। তাদের রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি জনগণকেন্দ্রিক। তাদের রাজনীতি শ্লোগানে নয়, বাস্তব কর্মে প্রকাশিত হয়। এমনই এক মানুষ অ্যাডভোকেট মোঃ লোকমান শাহ্। চট্টগ্রামের আনোয়ারার মাটিতে জন্মগ্রহণ করা এই আইনজীবী ও রাজনীতিক কেবল চট্টগ্রামের নয়, দেশের রাজনীতির জন্য এক অনন্য সম্পদ। তার জীবন কেবল অর্জনের নয়, এটি এক আদর্শিক সংগ্রামের কাহিনি, যা প্রতিকূলতা, কারাবরণ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং দলীয় দায়িত্বপালনের মধ্যে দিয়ে অটুটভাবে অগ্রসর হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষ তাঁকে কেবল আইনজ্ঞ বা রাজনীতিক হিসেবে চেনে না; তাকে তারা চেনে একজন মানুষের মতো মানুষের প্রিয় মুখ হিসেবে—যিনি অসহায়ের পাশে দাঁড়ান, যিনি ন্যায় ও গণতন্ত্রের জন্য অবিচল। শৈশব ও পারিবারিক আদর্শ অ্যাডভোকেট মোঃ লোকমান শাহ্-এর জন্ম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গ্রাম গুয়াপঞ্চকে। তার পিতা মরহুম মোঃ নূর মোহাম্মদ শাহ্ ও মাতা নূর আয়েশা বেগমের স্নেহময় আদর্শিক শিক্ষা তাকে ছোটবেলা থেকেই সততা, আত্মসম্মান, দায়িত্ববোধ এবং সাহসের মূল্য শিখিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি লক্ষ্য করেছিলেন—জীবন শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, এটি সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতিই তাকে শৈশব থেকেই কর্মঠ ও দায়িত্বশীল করে তুলেছিল। তার শিক্ষাজীবন ছিল অধ্যবসায়ী ও মনোযোগী। দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, আনোয়ারা কলেজ থেকে এইচএসসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম (পাস) এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম থেকে এলএলবি—এই ধারাবাহিকতা কেবল শিক্ষার প্রমাণ নয়; এটি তার আত্মগঠনের, মানসিক ও নৈতিক গঠনের প্রমাণ। ছাত্ররাজনীতি: আদর্শের প্রথম পাঠ শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেন। আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য, দপ্তর সম্পাদক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন—এই পদগুলো কেবল পরিচয় বা ক্ষমতার নাম নয়, বরং আদর্শিক দায়বদ্ধতার নাম। তার ছাত্ররাজনীতি ছিল স্লোগানভিত্তিক নয়; এটি ছিল বাস্তব কর্ম, সংগঠন দৃঢ় করা এবং মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করার আন্দোলন। মিছিল, সভা, কর্মসূচি—সেখানে তিনি ছিলেন নেতৃত্বের সামনের সারিতে, প্রতিকূলতার মধ্যে সাহসের এক প্রতীক হিসেবে। আদর্শ ও রাজনৈতিক বিশ্বাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন—বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং আত্মনির্ভরশীল দেশের স্বপ্ন। সেই চেতনা, আদর্শ ও দর্শনেই তিনি বিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার খেলা নয়; এটি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়, সত্য ও মানবিক দায়বদ্ধতার নাম। সেই বিশ্বাসে তার রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছে, যা প্রমাণ করে—তিনি পদ বা স্বার্থের জন্য নয়, আদর্শের জন্য রাজনীতিতে জড়িত। গ্রেফতার ও কারাবরণ: আদর্শের পরীক্ষা অ্যাডভোকেট লোকমান শাহ-এর রাজনীতিতে সাহস পরীক্ষা হয়েছে একাধিকবার। ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার। তখন তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। শেখ হাসিনা পতন আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কোতোয়ালী থানার মামলায় আটক করা হয়। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর, ঢাকার মহাসমাবেশে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার। এই সময়কার বন্দিজীবন, মামলা-হামলা এবং দমন-পীড়ন তাকে থামাতে পারেনি। বরং এগুলো তাকে আরও দৃঢ় করেছে। তার রাজনীতি শুধু বক্তৃতার নয়; এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। আইনি পেশা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা অ্যাডভোকেট লোকমান শাহ বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর। সুপ্রীম কোর্ট ও জজ কোর্টে তার নিয়মিত উপস্থিতি তাকে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু তার পরিচয় কেবল সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে নয়। অসহায় মানুষের জন্য তার চেম্বার একটি আশ্রয়স্থল। তিনি বিশ্বাস করেন—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। তার কাছে আইন কেবল কৌশল নয়; এটি নৈতিক দায়িত্ব, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজন। নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলেছেন। ২০২৬ সালে একই দৃশ্য—মনোনয়ন প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও দলের প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী প্রায় ৭৬,০০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই আচরণ প্রমাণ করে—লোকমান শাহ-এর রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ ও জনগণ কেন্দ্রিক। তিনি দলের জন্য কাজ করেন, নিজের স্বার্থের জন্য নয়। খালেদা জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব দেশনেত্রী খালেদা জিয়া–এর আপসহীন সংগ্রাম তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি খালেদা জিয়ার আদর্শে অবিচল থেকেছেন। বর্তমান সময়ে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে যে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, আধুনিক রাজনৈতিক কৌশল এবং তৃণমূল শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে, লোকমান শাহ্ তার প্রতি আস্থাশীল। তিনি মনে করেন, দেশের জন্য দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য মানে দেশপ্রেম ও ন্যায়পরায়ণতার প্রকাশ। চট্টগ্রামের মানুষের আস্থা ও প্রণাম চট্টগ্রামের মানুষ তাঁকে শুধুই একজন রাজনীতিক বা আইনজীবী হিসেবে চেনে না। তিনি তাদের জন্য এক সহানুভূতিশীল নেতা, যিনি সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। জমিজমার সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা বা মিথ্যা মামলা—সব ক্ষেত্রে তিনি পাশে দাঁড়ান। চট্টগ্রামের জনগণ তাকে প্রণাম জানাচ্ছে এক “মানবিক নেতা” হিসেবে। তাদের অভিপ্রায় স্পষ্ট—একজন সাহসী, আদর্শনিষ্ঠ ও দক্ষ মানুষ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে চট্টগ্রামের ও দেশের উন্নয়নের গতিধারা আরও শক্তিশালী হবে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে তার উপযুক্ততা চট্টগ্রামের জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে অ্যাডভোকেট লোকমান শাহ-এর অভিজ্ঞতা, আইনজ্ঞতা, রাজনৈতিক দক্ষতা এবং নৈতিকতা দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রমাণিত অবদান রাখতে সক্ষম।
উপযুক্ত পদ হতে পারে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান দুদকের চট্টগ্রামের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পদ এই পদগুলোতে তার দক্ষতা এবং নেতৃত্বের মান দেশের জন্য এক অনন্য সাফল্য হবে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান–এর প্রতি চট্টগ্রামের মানুষের নিবেদন চট্টগ্রামের জনগণ এক কণ্ঠে বলছে—অ্যাডভোকেট মোঃ লোকমান শাহ-এর মত ন্যায়পরায়ণ, সাহসী এবং আদর্শনিষ্ঠ নেতা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে, তা শুধু চট্টগ্রাম নয়, সমগ্র দেশের জন্য কল্যাণময় হবে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই নিবেদিত পুরুষের প্রতি। তাকে যথাযথ মর্যাদায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থাপন করলে: চট্টগ্রামে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন হবে রাজনীতিতে আদর্শ এবং নৈতিকতার মাপকাঠি জোরদার হবে জনগণ ও তৃণমূল পর্যায়ের আস্থা আরও দৃঢ় হবে রাষ্ট্রীয় নীতি ও গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা শক্তিশালী হবে, এক আদর্শিক রাজনৈতিক যোদ্ধার চূড়ান্ত পরিচয়-অ্যাডভোকেট মোঃ লোকমান শাহ্ কেবল একজন আইনজীবী নয়, একজন রাজনীতিক নয়, বরং তিনি একজন আদর্শিক সৈনিক। তিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে যাননি, তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশের জন্য দায়িত্বশীল পদে অবদান রাখার যোগ্য।
চট্টগ্রামের মানুষ তার অক্লান্ত পরিশ্রম, সাহস, ত্যাগ এবং নৈতিকতা সম্মান জানিয়ে তাকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চায়। তিনি ইতিহাসে একজন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হবেন—যিনি আদর্শ, ন্যায় ও মানুষের আস্থা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। চট্টগ্রামের জনগণ আশা করছে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান–এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রতিষ্ঠিত করলে, দেশের জন্য এটি এক অনন্য অর্জন এবং চট্টগ্রামের মানুষের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত হবে।
চলবে–