ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক-এর রেখে যাওয়া – আজাদী আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে

By admin
4 Min Read

দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বাঙালী মুসলমানদের নব জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের ৬৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে আজ ২৪ সেপ্টেম্বর (২০২৫) বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে ‘‘মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার, দৈনিক আজাদী এবং গণতন্ত্র’’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক এস এম জামাল উদ্দিন এতে সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জননেতা ডা: শাহাদাত হোসেন। উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব বিশিষ্ট সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিল নির্বাহী পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক সদস্য মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শেখ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক এস.এম. জামাল উদ্দিন।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস্ কমিশনের প্রেসিডেন্ট রাজনীতিবিদ এম. এ হাশেম রাজু, চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মেম্বার ইঞ্জি: মো: জাবেদ আবছার চৌধুরী, কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আলহাজ্ব মোহাম্মদ লোকমান হাকিম, কবি আসিফ ইকবাল, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা তারিকুল ইসলাম ফয়সাল, এস.এম. সিরাজদৌল্লা চৌধুরী, মহানগর বিএনপি নেতা আবু মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, মানবাধিকার নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ন্যাপ নেতা অজিত দাশ, বাংলাদেশ সরকারের কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নিজাম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল তারেক, মানবাধিকার কর্মী এম.এইচ. সোহেল প্রমুখ। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার, দৈনিক আজাদী এবং গণতন্ত্র একই সূত্রে গাঁথা। চট্টগ্রামের সংবাদপত্র শিল্প, মুদ্রণ ও প্রকাশনা জগতে তার অবদান ঐতিহাসিক। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, সর্বোপরি ’৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্রের পথকে সুগম করতে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব প্রতিষ্ঠিত দৈনিক আজাদী অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক এস.এম. জামাল উদ্দিন বলেন, ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত সৎ ও ধর্মপ্রাণ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারকে কোন প্রকার সংকীর্ণতা বা একদেশদর্শীতা স্পর্শ করতে পারেনি। ধর্মপ্রাণ মানুষদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখা মেকি প্রগতিবাদীরা তার জীবন, রীতি, আচরণ, বিশ্বাস ও আদর্শ পর্যালোচনা করলে নিজেদের ভ্রান্তি ও অপরিণত মানসিকতার চিকিৎসার অবকাশ পাবেন। তার মধ্যে ধর্ম ও প্রগতির সুষম সমন্বয় তাঁকে আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জনগণ ও রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি চট্টগ্রামের প্রাচীনতম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী ও অন্যান্য সংবাদপত্রগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, যাঁদের জীবনাদর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করত, তাঁদের ত্যাগ, ব্যক্তিত্ব, সম্ভ্রম ও সমীহের কারণ ছিল। আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের জীবনাদর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি সর্বগুণে গুণান্বিত এক অসাধারণ মানুষ ছিলেন।

ইঞ্জি: মো: জাবেদ আবছার চৌধুরীর বলেন, আজ আমরা এখানে মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করতে একত্রিত হয়েছি। দৈনিক আজাদী এবং তার প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা ও প্রকাশনা জগতে যে অবদান রেখেছেন, তা সত্যিই অবিস্মরণীয়। একজন প্রকৌশলী হিসেবে তিনি শুধুমাত্র প্রযুক্তি বা প্রজেক্টের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো—এই কাজগুলোতে তিনি আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা।

Share This Article
Leave a Comment