মানুষের রাজনীতির প্রত্যয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আবু সুফিয়ানের হৃদয়ছোঁয়া আলোচনা

By admin
6 Min Read

জামাল ও জি সানঃ
চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি আসন, (বাকলিয়া, চকবাজার ও ডবলমুরিং আংশিক) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান-এর সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের এক পরিমিত, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১২টায় নগরের ঐতিহ্যবাহী জামাল খান দাওয়াত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ সভা রূপ নেয় গণতন্ত্র, রাজনীতির নৈতিকতা ও রাষ্ট্র মেরামতের এক গভীর আলোচনামঞ্চে। সভাস্থলে ছিল প্রাণবন্ত উপস্থিতি। নগরের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রশ্ন, মতামত ও পর্যবেক্ষণে সভাটি পরিণত হয় একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংলাপে—যেখানে বক্তৃতার চেয়ে গুরুত্ব পায় যুক্তি, শালীনতা ও স্বচ্ছতার বার্তা। সূচনা বক্তব্য: অতীতের ত্যাগ থেকে আগামীর প্রত্যয় মতবিনিময় সভার সূচনা বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-৯ শুধু একটি আসন নয়, এটি আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে বিএনপির এক শক্ত ভিত। এই আসনে প্রার্থী হিসেবে আবু সুফিয়ান এমন একজন নেতা, যিনি দলের সবচেয়ে দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—তবুও আদর্শ থেকে একচুলও সরে যাননি। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপির রাজনীতিতে আবু সুফিয়ান একজন পরীক্ষিত সৈনিক। ক্ষমতার মোহ নয়, ত্যাগ ও নৈতিকতার রাজনীতিই তার পরিচয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। দুঃসময়ের রাজনীতি ও একজন পরীক্ষিত নেতার পথচলা আবুল হাসেম বক্কর আবু সুফিয়ানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে বিএনপির দুঃসময়ের নানা চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি—সবকিছুর মধ্যেও আবু সুফিয়ান সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। এই ত্যাগই তাকে আজ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। “আমি মাটির মানুষ” আবু সুফিয়ানের বক্তব্য এরপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। তার বক্তব্যে ছিল বিনয়, সংযম ও আত্মবিশ্বাসের মিশেল। তিনি বলেন, “আমি কোনো এলিট রাজনীতিবিদ নই। আমি সাধারণ মানুষের সন্তান, মাটির মানুষ। নির্বাচিত হলেও আমার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসবে না। জনগণের কাছে যেমন আছি, আগামীতেও তেমনই থাকব।” তিনি জানান, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশকে স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরের চেষ্টা করা হবে। “এই দেশকে নতুন করে মেরামত করতে হবে ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান, ক্ষতবিক্ষত অর্থনীতি ও নিঃশ্বাসরুদ্ধ গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে,” জোর দিয়ে বলেন তিনি। নিরপেক্ষ নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রত্যাবর্তন  আবু সুফিয়ান বলেন, জনগণের প্রাণের দাবি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে দেশে বিশ্বাসযোগ্য, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ চাপেই এই দাবি আবার বাস্তব রূপ পাবে। সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার স্বচ্ছ রাজনীতির প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হলফনামায় আমি আমার এবং আমার পরিবারের সম্পদের যে হিসাব দিয়েছি—আল্লাহর রহমতে জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন বা আমার দল সরকার গঠন করে—তাহলে পাঁচ বছর পরও আমার সম্পদ এক তোলাও বাড়বে না। আপনারা হিসাব নেবেন।” এই বক্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ ভোটের আহ্বান আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি দল-মত নির্বিশেষে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সকল নাগরিকের প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্র হবে মানুষের উৎসব। সহিংসতা নয়, শান্তির মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের জয় নিশ্চিত করতে হবে।” উন্নয়ন ভাবনা ও সাংবাদিকদের প্রশ্ন চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে বহু সম্ভাবনা অপচয় হচ্ছে। সৎ নেতৃত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই নগরীকে নতুন উচ্চতায় নেওয়াই তার লক্ষ্য। হ্যাঁ-না ভোটে স্পষ্ট অবস্থান সভায় আলোচনায় আসে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি হ্যাঁ-না ভোট বা গণভোট প্রসঙ্গ। সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে আবু সুফিয়ান দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকবো। কারণ আমরা জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গণভোটকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখি।” শালীন আয়োজন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ পুরো মতবিনিময় সভাটি ছিল শান্ত, সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জন্য দুপুরের খাবারের সুব্যবস্থাও করা হয়, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মানবোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মতবিনিময় সভা শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয় বরং এটি ছিল গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও মানুষের রাজনীতির এক স্পষ্ট বার্তা। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান তার বক্তব্য ও আচরণে নিজেকে তুলে ধরেছেন একজন স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে—যার রাজনীতির কেন্দ্রে আছে জনগণ, আর লক্ষ্য রাষ্ট্রের নৈতিক পুনর্গঠন। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চিফ কোঅর্ডিনেটর, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৯ আসনে সংসদ সদস্য প্রত্যাশী আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামশুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল আলম ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, ইসমাঈল বালি, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাসস’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বৈশাখী টিভির ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ সহ চট্টগ্রামে কর্মরত বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।

Share This Article
Leave a Comment