আনোয়ারায় ফরিদ হত্যাকাণ্ড: যৌন নির্যাতন, কোটি টাকার প্রতারণা ও পরিকল্পিত হত্যা—পর্দার আড়ালের অন্ধকার জগত প্রকাশ

By admin
5 Min Read

– মো. কামাল উদ্দিনঃ

চট্টগ্রাম আদালতে সম্প্রতি একটি বলৎকার মামলার রায় ঘোষণার পরই সামনে এসেছে আরেকটি শিহরণ জাগানো সত্য— আনোয়ারা উপজেলার কৈখাইন গ্রামের তরুণ ফরিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর অপরাধচক্রের দীর্ঘদিনের লুকানো ইতিহাস। আমাদের অনুসন্ধান, স্থানীয়দের সাক্ষ্য, নিহতের পরিবারের কথোপকথন এবং নানা গোপন দলিলের আলোকে উঠে এসেছে— বলৎকার, কোটি টাকার প্রতারণা, সুকৌশলে পরিকল্পিত হত্যা এবং আলামত গুমের এক বীভৎস সত্য, যার মূল নায়ক আনোয়ারা ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী শাহাদাত হোসেন। আর এই অপরাধকে ঢেকে দিতে সহযোগিতা করেছে তার আপন ভাই, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী রাশেদ। বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে পশুর মতো নির্যাতন—অভিযোগের কেন্দ্রে শাহাদাত হোসেন নিহত ফরিদের পরিবার লিখিতভাবে জানিয়েছে— শান্ত-সরল, নিরীহ স্বভাবের ফরিদকে বছরের পর বছর বন্ধুত্বের নামে ধর্ষণ করে এসেছে শাহাদাত।  বন্ধুত্বের মুখোশ পরে বন্ধুকে ‘বউয়ের মতো’ ব্যবহার করত সে। ফরিদের লজ্জা, ভয়, সমাজের কথা—সবকিছু কাজে লাগিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছিল এই শাহাদাত। এভাবে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেই ভেঙে পড়েছিল ফরিদের জীবন। অর্ধকোটি টাকার প্রতারণা—জমিজমার নামে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ-ফরিদের সাহসী প্রবাসী ভাইদের জমিজমা ব্যবসার নামে শাহাদাত হাতিয়ে নেয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ফরিদের নামে জমি কিনলেও সব কাগজ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে সে হয়ে ওঠে রাতারাতি কোটিপতি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— “একজন ভূমি অফিসের ঝাড়ুদার হঠাৎ এত টাকা পেল কোথায়?” সব উত্তর এখন একটাই নির্দেশ করে— ফরিদের টাকাই ছিল শাহাদাতের রাতারাতি বড়লোক হওয়ার মূল জ্বালানি।
সত্য প্রকাশের ভয়—এরপরই শুরু হয় হত্যার নীলনকশা -যখন শাহাদাতের বিরুদ্ধে বলৎকার ও টাকার প্রতারণার বিষয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়— তখনই তৈরি হয় হত্যার পরিকল্পনা। এক রাতে ফরিদকে গুরুতর আঘাত করা হয়। যখন মনে হলো সে মারা গেছে, তখন তাকে মৃত ভেবে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্যরকম— একজন সিএনজি চালক মুমূর্ষু অবস্থায় ফরিদকে উদ্ধার করে। যদি সেদিন এই চালক না আসত— ফরিদের লাশ হয়তো পাওয়া যেতই না। হাসপাতালের অদ্ভুত রহস্য—সব নথি উধাও! ফরিদকে নিয়ে যাওয়া হয় আনোয়ারা উপজেলা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও একটি কাগজও পরিবারের হাতে দেওয়া হয়নি। কেন? এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেলের দিকে নেওয়ার সময় ফরিদের পরিবার, অজ্ঞাতসারে, ফরিদকে তুলে দেয়— ঘাতক শাহাদাতের ভাই রাশেদের হাতে। রাশেদ আগেই জানত কী হয়েছে। ফলে—চিকিৎসার নথি,ইসিজি রিপোট র্ভর্তি তথ্য,মৃত্যুর সময়,পর্যবেক্ষণ ফরম সবকিছুই রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়। ফরিদের মা ও ভাই হাসপাতালে ছিলেন— তবুও তারা জানতে পারেননি ফরিদ কখন মারা গেল! রাশেদ তড়িঘড়ি ঘোষণা দেয়— “স্ট্রোক করেছে।” তারপর চোখের নিমিষে দাফনের আয়োজনও সেরে ফেলে।
সন্দেহের সূচনা—লাশের মাথায় রক্ত!
ফরিদের জানাজার সময় হুজুর প্রথম দেখেন— মাথায় তাজা রক্ত। গায়ে ছিল আঘাতের দাগ। সিএনজি চালকের বর্ণনা মামির দেখা আঘাত শরীরে ক্ষতচিহ্ন সব মিলিয়ে পরিবারের মনে জন্ম নেয়— “আমার ছেলে খুন হয়েছে।” সাদা কালো মাল্টিমিডিয়ার অনুসন্ধানে উঠে এল ভয়ঙ্কর সত্য বিচারের আশায় ফরিদের পরিবার আসেন চট্টগ্রামের চেরাগি পাহাড় মোড়ের
সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজে। তাদের বিশ্বাসের জায়গা— “যদি সত্য কেউ বলতে পারে— সেটা কামাল উদ্দিনই পারবেন।” আমি আমার অনুসন্ধানী টিম— জামাল ও জিসানকে পাঠাই মাঠে। প্রতিটি তথ্য, প্রতিটি সাক্ষ্য, প্রতিটি গোপন নথি—
একটির পর একটি সত্য বেরিয়ে আসতে থাকে।
আমরা পেয়েছি— নিয়মিত বলৎকার,টাকার প্রতারণা জমিজমা আত্মসাৎ,পরিকল্পিত হত্যার প্ল্যান,হাসপাতালে নথি গায়েব,তথ্য গোপনে সহযোগী চক্র,মৃত্যুর সঠিক তথ্য আড়াল,পরিবারকে ভয়-হুমকি সবটাই প্রমাণ করে— এটি একজনের অপরাধ নয়—একটি শক্তিশালী অপরাধচক্র। জিডি তদন্তেও রহস্য—এএসআই নুরুল আবসারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ,ফরিদের মা জীবনের ভয়ে জিডি করেন আনোয়ারা থানায়। জিডি তদন্তের দায়িত্ব পান এএসআই নুরুল আবসার। কিন্তু পরিবার বলছে—তিনি অস্বাভাবিক প্রশ্ন করেছেন,বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেনসত্য গোপন করতে চেয়েছেন,হাসপাতালে যেমন নথি গায়েব— ঠিক তেমনি পুলিশের তদন্তেও যেন অদৃশ্য শক্তির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মায়ের আর্তনাদ—“আমার ছেলেকে হত্যার বিচার চাই” নিহত ফরিদের মা বলেছেন— “যদি আমার ছেলের লাশ উত্তোলন করে পোস্টমর্টেম করা হয়— সব সত্য বেরিয়ে আসবে।”
একটি পরিবার শুধু সন্তান হারায়নি—হারিয়েছে ন্যায়বিচারের বিশ্বাসএলাকায় এখন একটাই আলোচনা— “শাহাদাত হোসেনের পেছনে কারা?” “রাশেদ হাসপাতালের নথি গায়েব করল কীভাবে?” “একজন ঝাড়ুদারের কাছে কোটি টাকা এলো কোথা থেকে?” মানুষের মনে ভয়, ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঢেউ। আমাদের প্রতিশ্রুতি- সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ সত্যের পথেই হাঁটে। আমরা এই মামলার প্রতিটি অগ্রগতি— প্রতিটি তদন্ত— প্রতিটি সাক্ষ্য— সবকিছু সামনে নিয়ে আসব। কারণ— সত্য চাপা পড়লেও একদিন বিস্ফোরণের মতো বের হয়ে আসে। নিহত ফরিদের আত্মা ন্যায় চাইছে। এক মায়ের চোখের জল বিচার চাইছে। সেদিন আসবেই—যেদিন এই ভয়ঙ্কর চক্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে আদালত, আইন, রাষ্ট্র। চলবে…

Share This Article
Leave a Comment