
-বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী সিকদার বাড়ি এলাকায় এক প্রবাসী পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা সন্ত্রাসী নির্যাতন, বসতভিটা দখল, চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং নব্বই বছরের বৃদ্ধাকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শামীম আক্তার (৩৮), স্বামী প্রবাসী মোঃ হারুন—সম্প্রতি এই অভিযোগপত্র চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতুর কাছে দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ইমন (১নং বিবাদী) এবং তার পিতা আবু মনসুরের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বহুদিন ধরে বাদীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। তাদের লক্ষ্য—বাদীর স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে নেওয়া। এই চক্রের সঙ্গে আরও চারজন জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, যারা নিয়মিত এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ঘটনার বিবরণ: ৮ অক্টোবর ২০২৫ সকাল সাড়ে ৮টায় বাদী নিজ বাড়ির উঠোনে গাছ কাটতে গেলে বিবাদীরা দলবেঁধে হামলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে। বাদী প্রতিবাদ করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের জন্য প্রস্তুত হয়। বাদীর মেয়ে শাহরিন আক্তার (২০) এগিয়ে এলে প্রথম বিবাদী ইমন তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। তারপর দ্বিতীয় বিবাদী আবু মনসুর বটি নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে—পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে না এলে বড় ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটত।
শামীম আক্তার আরও জানান, বিবাদীরা বারবার হুমকি দিয়ে বলেছে—“বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করে বাড়ির মধ্যেই দাফন করে দেওয়া হবে।” শুধু তাই নয়, পুরো পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আজীবন জেল খাটানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
বসতভিটা দখল ও চাঁদা দাবি: অভিযোগকারী জানান, বিবাদীরা ইতোমধ্যেই তাদের বসতভিটা দখল করে সেখানে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করেছে। পাশাপাশি চাঁদা হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের শতবর্ষী অসুস্থ বৃদ্ধাকেও জিম্মি করে রাখা হয়েছে, যাতে স্বজনরা কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস না পায়।
থানার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও থানার পক্ষ থেকে কোনোরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এতে পরিবারের ভেতরে আরও আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা আশঙ্কা করতে থাকে যে যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে।
পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ: বিষয়টি জানার পর পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতু তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। তিনি দ্রুততম সময়ে সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল, প্রাণনাশের হুমকি এবং বৃদ্ধাকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ সুপার জানান—জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে তিনি কঠোর অবস্থানে আছেন। এই ঘটনায় কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না, এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আশার আলো দেখছে ভুক্তভোগী পরিবার: বহুদিনের ভীতি, দখল-উৎপীড়ন এবং সন্ত্রাসী আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে থাকা পরিবারটি এখন পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আবারও নিরাপত্তার আশ্বাস অনুভব করছে। তারা আশা করছে—এইবার সত্যিই আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, এবং সন্ত্রাসী চক্রের দখল-সন্ত্রাসের অবসান ঘটবে। এই ঘটনাটি বোয়ালখালী এলাকায় একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সন্ত্রাসী দখলবাজির শিকার না হয়।