
দিনে শান্ত, সবুজে মোড়ানো প্রকৃতি, অথচ রাত নামলেই যেন রূপ পাল্টায়। বাতাসে ভেসে আসে অদ্ভুত শব্দ, ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে ভেসে ওঠে অচেনা ছায়া। পাহাড়ের নির্জন সবুজবীথির আড়ালে এক রহস্যময়ী নারী নাকি বিচরণ করে, যার পদচারণায় সঙ্গী হয় ভয় আর আতঙ্ক। লোকমুখে শোনা যায়—এই নারী কখনো দেখা দেন ধোঁয়ার মতো আবছা, কখনো পরীর মতো অপার্থিব রূপে, আবার কখনো রাগান্বিত দানবীর ভঙ্গিতে। তার চারপাশে ছুটে বেড়ায় কয়েকটি কুকুর—চোখে অগ্নিশিখার ঝিলিক, দাঁত খিচিয়ে যেন মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। বলা হয়, নারীটির ইশারায় কুকুরগুলো লেলিয়ে দেওয়া হয়, আর তখন পাহাড় কেঁপে ওঠে তাদের হিংস্র ডাক আর আক্রমণে। আশপাশের মানুষরা এই কাহিনি নিয়ে ফিসফিস করে—কারও কাছে নারীটি প্রতিশোধস্পৃহা আত্মা, কারও কাছে অজানা শক্তির বাহক। তবে যেটুকু নিশ্চিত, তা হলো—রাতের আঁধারে বাটালি পাহাড়ের পথচারীরা হঠাৎ করেই শিকার হয় আতঙ্কের। মনে হয়, অদৃশ্য কোনো শক্তি সবকিছুকে চালনা করছে। এ যেন ভয়, রহস্য আর বাস্তবতার মাঝামাঝি এক জগৎ—যেখানে কুকুরের হিংস্রতা মিশেছে এক অচেনা নারীর উপস্থিতিতে। পাহাড়ি অন্ধকারে যার পদধ্বনি আজও অনেকে শুনেছে বলে দাবি করে, কিন্তু মুখোমুখি হওয়ার সাহস কেউ পায়নি।