
-মো. কামাল উদ্দিন:
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ৪নং ওয়ার্ডে এক ছাত্রী নওরিন সুলতানা (২৪) ও তার পরিবারের ওপর নৃশংস সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নওরিন, তার মা ও ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। নওরিন সুলতানা কাপাসগোল সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের বিবিএ (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, তার পরিবার প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসবাস করছে। কিন্তু একই এলাকার কিছু জগড়াটে ও আইন অমান্যকারী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। ভিকটিমের অভিযোগ অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার সময় প্রথমবারের মতো হামলাকারীরা তাদের বাসায় অনুপ্রবেশ করে। তারা নওরিন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারধর এবং হত্যার হুমকি দেয়। এতে তার পরিবার আতঙ্কে পড়ে।翌দিন, ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার সময় হামলাকারীরা ফের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, লোহার রড, দা-বটি ও চাকু নিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। হামলার সময় নওরিনের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়, যা তার কপাল ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। তার মা হামলা প্রতিহত করতে গেলে ২নং আসামি চাকু দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে, এতে তার বাম হাতের তালু কেটে যায়। নওরিনের ভাই মোহাম্মদ হাসান ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে এবং ৩ ও ৪নং আসামি তার উপর আঘাত চালিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। হামলাকারীরা নওরিনের শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় পরিবারের বসতবাড়ির বিভিন্ন আসবাপত্র ভাঙচুর হয় এবং আনুমানিক ২৫–৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। হামলাকারীরা তাদেরকে ভয় দেখিয়ে হুমকি দেয়, মামলা করলে তাদের হত্যা করে কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথাও জানায়। ভিকটিম নওরিন বলেন, “আমি একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনা করতে চাই। অথচ প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি। তারা যেকোনো সময় আবার হামলা করতে পারে।” পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর প্রথমে ১২/০৯/২০২৫ তারিখে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৮৩১) করা হয়। এরপর ১৭/০৯/২০২৫ তারিখে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে উল্লেখিত মামলার নং হলো ১৪৩/৪৪/৩২৩/৩২৪/৬০৯১৮২/৬০৮১২০। ভিযুক্তদের মধ্যে আজিজুর রহমান (৫৮), ইজাজুর রহমান (২৩), আবদুর রহিম দিলু (৩৬), মোহাম্মদ হাসান (৩১), হোসনেয়ারা বেগম (৬০) এবং আরও অজ্ঞাতনামা ৩–৪ জন রয়েছেন। চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহিদুল কবির বলেন, “আমরা অভিযোগটি পেয়েছি এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলছে। আশা করি দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের দায়িত্ব শুধু অভিযোগ নেয়ার নয়, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও।” তবে নওরিন পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দুই দিন হয়ে গেলেও পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। হামলাকারীরা এখনও হুমকি দিচ্ছে। আমরা চাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সরাসরি হস্তক্ষেপ করুন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে আমরা আরও বিপদে পড়তে পারি।” স্থানীয় সচেতন মহলও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। নওরিন ও তার পরিবারের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি না দিলে তারা নিরাপদে বাস করতে পারবে না। ভিকটিম নওরিনের মা, ভিকটিমের ভাই এবং প্রতিবেশীরা বলেন, তারা রক্তাক্ত অবস্থায় থাকাকালীন স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে তারা আবারও তাদের বাসায় ফিরে গেছে, কিন্তু আতঙ্ক ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাননি। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, হামলাকারীরা কোনো প্রকার জোর প্রয়োগের মাধ্যমে আবারও পরিবারের ওপর হামলা চালাতে পারে।এই ঘটনার পর সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে। তারা দাবি করছেন, পুলিশ ও প্রশাসন যেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে। নওরিন বলেন, “আমাদের পড়াশোনা, জীবন এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ অপরিহার্য। আমরা চাই, চট্টগ্রামের মানুষ যেন এমন হামলার শিকার না হয়।” চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। এই লেখা সংক্ষিপ্ত, নিউজমাধ্যমের শৈলী অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, যাতে ঘটনার সময়, স্থান, ভিকটিম-আসামি পরিচয়, হামলার বিস্তারিত, ভিকটিমের চিকিৎসা, পুলিশের ভূমিকা, স্থানীয় প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তা দাবির বিষয়গুলো সব অন্তর্ভুক্ত থাকে|