বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার আদায়ে কলম ও কণ্ঠস্বর নিয়ে রাজপথে থাকবে নাগরিক ফোরাম: মো. কামাল উদ্দিন

0
58

চট্টগ্রাম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬: বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব, সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক মো. কামাল উদ্দিন।
শনিবার বিকেল ৫টায় নগরীর সিআরবি এলাকার তাসফিয়া রেস্টুরেন্টে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় পরিষদ ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির বিশেষ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, সমুদ্রবন্দর ও পর্যটনশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অথচ এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, গ্যাসসংযোগ সংকট, অপরাধপ্রবণতা এবং নাগরিক সেবার নানা সীমাবদ্ধতায় ভুগছেন। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা যত বিশাল, নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি ততটাই জরুরি। এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার সংগঠন নয়; এটি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার, জনস্বার্থ এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নের পক্ষে একটি দায়িত্বশীল নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। অন্যায়, অনিয়ম, জনদুর্ভোগ ও নাগরিক অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে আমরা তথ্য, যুক্তি, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, একটি আধুনিক নগরের পরিচয় শুধু দালানকোঠা কিংবা সড়কের সৌন্দর্যে নয়; বরং নগরটি কতটা পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী, তার ওপর নির্ভর করে। ফুটপাত পথচারীদের অধিকার। অবৈধ দখলমুক্ত ফুটপাত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পরিকল্পিত নগরব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নাগরিক ফোরাম গঠনমূলক সহযোগিতা করবে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তুলে ধরবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সহনশীলতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক শান্তি অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অপরাধীর পরিচয় কিংবা প্রভাব নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক নেতৃত্বকে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রায় ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহকের গ্যাসসংযোগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আগে অর্থ জমা দিয়েও বহু গ্রাহক গ্যাসসংযোগ না পেয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১১ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা এসব গ্রাহকের সমস্যা মানবিক ও প্রশাসনিক—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জমা দেওয়া অর্থের নথি যাচাই, সংযোগ না পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নির্ধারণ করা। নাগরিকদের অর্থ জমা নেওয়ার পর তাঁদের ন্যায্য প্রত্যাশা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলাগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত, বাস্তব সমস্যা ও ভবিষ্যৎ চাহিদাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন এবং মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা। একইভাবে নাগরিক সংগঠনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কণ্ঠস্বরকে দায়িত্বশীলভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাই বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম তথ্যভিত্তিক স্মারকলিপি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং নিয়মতান্ত্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করবে।
তিনি বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না, চাই সমস্যার সমাধান। আমরা অযৌক্তিক বিরোধিতা চাই না, চাই জনস্বার্থে কার্যকর উদ্যোগ। আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অবস্থান নিতে চাই না; বরং বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের পক্ষে কথা বলতে চাই। জনগণের ন্যায্য দাবি যেখানে থাকবে, নাগরিক ফোরাম সেখানে যুক্তি, তথ্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তার পক্ষে অবস্থান নেবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলোকে আর অবহেলার চোখে দেখার সুযোগ নেই। সমস্যা চিহ্নিত করা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here