বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: আবু সৈয়দ

0
10

চট্টগ্রাম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬: বৃহত্তর চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নগরীর সিআরবি এলাকার তাসফিয়া রেস্টুরেন্টে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় পরিষদ ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সৈয়দ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। অথচ এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যানজট, ফুটপাত দখল, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, গ্যাসসংযোগ সংকট এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত কর্মসূচি, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা।
তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য; অবৈধ দখলদারত্বের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাতীয় ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি। তাই সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবু সৈয়দ বলেন, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারত্ব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
কর্ণফুলী গ্যাসের আবাসিক সংযোগসংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর আগে অর্থ জমা দিয়েও প্রায় ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহক এখনো গ্যাসসংযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমা দিয়ে সংযোগ না পাওয়া গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং গ্রাহকদের ন্যায্য দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক যোগাযোগ, যানজট নিরসন, গ্যাসসংযোগ, নাগরিক সেবা, পর্যটন উন্নয়ন এবং নিরাপদ নগর প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।
আবু সৈয়দ বলেন, “উন্নয়ন শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন, প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন এবং স্বস্তি ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন। বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে। নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও জনস্বার্থভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here