চট্টগ্রাম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬: বৃহত্তর চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
শনিবার বিকেল ৫টায় নগরীর সিআরবি এলাকার তাসফিয়া রেস্টুরেন্টে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় পরিষদ ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির বিশেষ সভায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম শুধু একটি নগরী নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। অথচ যানজট, ফুটপাত দখল, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, গ্যাসসংযোগ সংকট এবং নাগরিক সেবার নানা সীমাবদ্ধতা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ।”
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। নগরীকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযান যেন সাময়িক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাত পথচারীদের অধিকার; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবৈধ দখলে তা থাকতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে সহায়ক।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
কর্ণফুলী গ্যাসের আবাসিক সংযোগসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর আগে অর্থ জমা দিয়েও প্রায় ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহক এখনো গ্যাসসংযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের দুর্ভোগ নিরসনে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থ জমার নথি, সংযোগ প্রদানের বর্তমান অবস্থা এবং প্রশাসনিক জটিলতা যাচাই করে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের সমস্যাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চায়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্যভিত্তিক স্মারকলিপি প্রদান, নিয়মতান্ত্রিক যোগাযোগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের নিরাপত্তা, স্বস্তি, নাগরিক অধিকার এবং উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা। বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমাজ, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম তার গঠনমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

