বাকলিয়ায় ইমন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ আসামি গ্রেপ্তার

0
10

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় ইমন (২১) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে চুরির অভিযোগে ইমনকে একটি দোকানের ভেতরে আটক করেন মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান। পরে তিনি কল্পলোক আবাসিক এলাকার রাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর কাছে ইমনকে হস্তান্তর করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমনকে মারধর করতে করতে কল্পলোক মডেল মসজিদের দক্ষিণে সাজেদা ফাউন্ডেশনের পাশের একটি খালি মাঠে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ১৪ অক্টোবর সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের মুখে ৫ নম্বর সেতুর নিচে বেইজের ওপর ইমনের মরদেহ ফেলে রেখে যান আসামিরা।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাংয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তদন্ত শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে বাকলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাকলিয়ার বাস্তুহারা এলাকার আব্দুর রহমান জিসান (২১), কল্পলোক আবাসিক এলাকার ইয়াছিন আরাফাত (২৩), পটিয়ার বাসিন্দা মো. হাসান (৩৩) এবং নোয়াখালীর চরজব্বরের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান (২৭)। তাঁরা বর্তমানে বাকলিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত ইমনের ফুফুর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৫। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রকাশের আগে সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: পুলিশি বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি চার ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন ও গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও বর্ণিত সময় অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের পরদিন রাত আড়াইটায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই শিরোনামে ‘চার ঘণ্টার মধ্যে’ ব্যবহারের আগে সময়ের হিসাবটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here