চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, ছোরা, ট্রাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টা থেকে রাত ৩টার মধ্যে মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখের তালুক এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ডাকাত দলের ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। এ সময় বাড়ির মালিক মতিন উল্লাহকে মারধর করে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখা হয়।
পরে ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর, সিপিইউসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা প্রতিবেশীদের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মিরসরাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মিরসরাই থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চালানো হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন—কুমিল্লার তিতাসের মো. রহিম, বরুড়ার মো. জামাল প্রকাশ কুদ্দুস, দাউদকান্দির মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিব, লাকসামের মো. আনোয়ার হোসেন মিলন এবং একই উপজেলার মো. হানিফ।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার রহিমের বিরুদ্ধে চুরি, অস্ত্র, হত্যা ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। জামাল প্রকাশ কুদ্দুসের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলা এবং সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিবের বিরুদ্ধে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। হানিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। আনোয়ার হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা, একটি ট্রাক, সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ডিভিআর ও মনিটর, একটি সিপিইউ এবং একটি ভাঙা তালা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত এএসপি মতিন উল্লাহ অবসরে যাওয়ার পর পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়ার আশায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে দলটি।
এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ডাকাত দলের অন্যান্য অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

