টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: চার মরদেহের ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে লাগবে ১৫ দিন

0
8

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে উদ্ধার হওয়া চার মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে আরও প্রায় ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে মরদেহের আকৃতি দেখে নিখোঁজ একই পরিবারের চার সদস্যকে শনাক্ত করার দাবি করেছেন স্বজনেরা।

নিখোঁজ ওই চারজন হলেন নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে নাহিদুর রহমানের ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স বলেন, ‘ওরা আর নেই। অঙ্গার হয়ে যাওয়া মরদেহের আকার-আকৃতি দেখে ভাই-ভাবি ও তাদের দুই মেয়েকে চিনতে পেরেছি। তবে চূড়ান্ত শনাক্তের জন্য আমার ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।’

নিহতদের গ্রামের বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে। নাহিদুর ওই গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছোট ছেলে। প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন তিনি। রাজধানীর শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মিরপুর এলাকায় থাকতেন তিনি।

পরিবার নিয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নাহিদুর। গত ১১ অক্টোবর তিনি মেরিন ড্রাইভের ইনানীতে অবস্থিত টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষ বুকিং করেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। শুক্রবার তাঁরা রিসোর্টটিতে ওঠেন। ভ্রমণ শেষে ২১ অক্টোবর বুধবার তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।

কিন্তু শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই পরিবারের চার সদস্যের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁদের মুঠোফোনেও যোগাযোগ করতে পারছিলেন না স্বজনেরা। দিনভর খোঁজাখুঁজির পর শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের একটি ওয়াশরুম থেকে পরস্পরকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই তাঁদের পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন স্বজনেরা।

মরদেহগুলোর আকৃতি দেখে নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করার দাবি করেন তাঁরা। তবে পরিচয় নিশ্চিত করতে এখন ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কক্সবাজারে যাওয়ার পর গত শুক্রবার রাতে বাবা মতিয়ার রহমান ও চাচাতো ভাই খালিদ হোসেনের সঙ্গে নাহিদুরের শেষ কথা হয়। ওই সময় বাবাকে তিনি বলেছিলেন, ‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে।’

নাহিদুরের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন চাকরির সুবাদে কক্সবাজারে থাকেন। শনিবার নাহিদুরের সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দিনভর চেষ্টা করেও তাঁদের সন্ধান পাননি।

খালিদ হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের ওয়াশরুম থেকে চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁদের আশঙ্কা হয়, নাহিদুর, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে আর বেঁচে নেই। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হতে পারে বলে ধারণা করেন তাঁরা।

তিনি আরও বলেন, মরদেহগুলো বর্তমানে কক্সবাজারের মর্গে রয়েছে। পুলিশ সেখান থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। রোববার রাত ১০টার দিকে নাহিদুরের আপন ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্সসহ পরিবারের সদস্যরা আবার ডিএনএ নমুনা দিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

খালিদ হোসেনের ভাষ্য, যতদূর তাঁরা জানতে পেরেছেন, নমুনা দেওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই উদ্ধার হওয়া চার মরদেহের পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here