প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাল বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

0
44

“মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সিডিএ চেয়ারম্যানের চলমান অভিযান সফল করতে নাগরিকদের সহযোগিতার আহ্বান: ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতসহ চট্টগ্রামের সংকট নিরসনে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্যোগ।
চট্টগ্রাম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার: বৃহত্তর চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনের প্রত্যয় নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় পরিষদ ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৫টায় নগরীর সিআরবি এলাকার তাসফিয়া রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ। সভায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন।
সভায় চট্টগ্রামের নাগরিক জীবনের নানামুখী সমস্যা, নগর উন্নয়নের চলমান উদ্যোগ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, কিশোর অপরাধ ও সন্ত্রাস দমন, কর্ণফুলী গ্যাসের আবাসিক সংযোগ সংকট, গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার উদ্যোগের জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে অভিনন্দন
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র ও নাগরিক অধিকার সবার। একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তব জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক ঐক্য ও নাগরিক দায়িত্ববোধ জোরদার করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ফুটপাত দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে মেয়রের উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নগর ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং নাগরিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। বক্তারা নগরীর ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা, অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং যানজট কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তাঁরা বলেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। ফুটপাত দখল হয়ে গেলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নামেন, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, যানজট ও জনদুর্ভোগ। তাই পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় মেয়রের চলমান অভিযান সফল করতে দলমত নির্বিশেষে নাগরিকদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নগর উন্নয়নের উদ্যোগ যেন ধারাবাহিক, জনবান্ধব ও কার্যকর হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা মনে করেন, একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন, প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।
কিশোর অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়গুলো উঠে আসে। বক্তারা বলেন, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে।
কিশোরদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সহিংসতার কারণে নাগরিক জীবনে ভীতি সৃষ্টি হলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন।
১১ বছরেও গ্যাসসংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ, ২৫ হাজার গ্রাহকের দুর্ভোগ নিরসনের দাবি
সভায় কর্ণফুলী গ্যাসের আবাসিক সংযোগসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ১১ বছর আগে অর্থ জমা দেওয়া প্রায় ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহক এখনো গ্যাসসংযোগ পাননি। অর্থ জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সংযোগ না পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, আবাসিক গ্যাসসংযোগের জন্য অর্থ জমা দেওয়ার পরও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হলে গ্রাহকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। এ অবস্থার অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রকৃত পরিস্থিতি প্রকাশ করা এবং আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সভায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের আবেদন, অর্থ জমার নথি, সংযোগ প্রদানের বর্তমান অবস্থা এবং প্রশাসনিক জটিলতা যাচাই করে একটি কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ ও লোডশেডিংয়ের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের যে ভোগান্তি হয়, তা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, গ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। এ সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গ্রাহকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
চট্টগ্রামের সংকট নিরসনে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্যোগ
সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়ে আলোচনা হয়। নগরীর যানজট, ফুটপাত দখল, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, আবাসিক গ্যাসসংযোগ, অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ এবং নাগরিক সেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করা হয়।
বক্তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। অথচ দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট এবং বিভিন্ন সেবার সীমাবদ্ধতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনা, দায়িত্বশীল প্রশাসনিক ভূমিকা এবং কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, নাগরিক সংগঠনের কাজ শুধু সমস্যা তুলে ধরা নয়; বরং তথ্যভিত্তিক দাবি উপস্থাপন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনস্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম নাগরিকদের ন্যায্য দাবি আদায় ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
সভায় যাঁরা বক্তব্য রাখেন
সভায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মো. জিল্লুর রহমান শাকিল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিন, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মিনহাজুর রহমান চৌধুরী, এম হামিদুল হোসাইন, আকতার উদ্দিন রানা, আজিজুর রহমান, শওকত উল্লাহ, বিলাকিস বেগম, রীনা আক্তার, দিল আফরোজ, এস এম নুরুন্নবী জনি, মো. মনজুরুল আলম টিপু, মো. নাজিম উদ্দিন, ফজলুল করিম, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিপ্লব বড়ুয়া, মো. ইউসুফ, মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস, শাখাওয়াত হোসেন, আহম্মদুল হক, মো. গিয়াসউদ্দিন, মো. কুতুবউদ্দীন চৌধুরী, মো. ইকবাল হোসেন ফিরোজ, এএইচএম আলমগীর চৌধুরী, অধ্যাপক মো. এনামুল হক চৌধুরী, আলহাজ্ব নেজামুল হক চৌধুরী (কাজল), এ কে এম অলিউল্লাহ, সোহেল তাজ, মো. নূরুল হুদা চৌধুরী, এম রাসেল, সাজু তালুকদার, লিটু সূত্রধর ও কামালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জনস্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয়
সভায় বক্তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নাগরিক সমস্যা সমাধান, নিরাপদ নগরজীবন প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাগরিক ফোরামের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের এই বিশেষ সভায় নাগরিক অধিকার, জননিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here