বেতার-টিভিতে চট্টগ্রামের শিল্পীদের ৮০ শতাংশ সুযোগ দেওয়ার দাবি

0
14
বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের স্থানীয় শিল্পীদের অন্তত ৮০ শতাংশ সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বেতার ও টেলিভিশনের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্র, চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলার শিল্পীদের প্রাধান্যের কারণে স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা পর্যাপ্ত অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন করে স্থানীয় শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন কারণে যেসব শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি সুবিধাভোগী এবং ফ্যাসিবাদী চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্তসাপেক্ষে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।
১৪ অক্টোবর বুধবার রাত ৮টায় চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়স্থ লুসাই ভবনের তৃতীয় তলায় চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।
জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ, চট্টগ্রামের সভাপতি কামরুল হুদার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকার নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি কবি এম এ হাশেম আকাশ, বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কবি সুলতান আহমেদ কমল, নজরুল গবেষক ও সাংবাদিক কবি ওচমান জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের গীতিকার ও সুরকার দীলিপ ভারতী, নাট্যকার রতন চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী চন্দনা চক্রবর্ত্তী, আঞ্চলিক গানের শিল্পী ফরিদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ শিল্পী পাপড়ী বৈরাগী, সংগীতশিল্পী এস কে মানিক, ব্যাংকার ও সংস্কৃতিকর্মী মতিউর রহমান ফরহাদী, কবি জহিরুল ইসলাম জহির, কবি আব্দুল্লাহ মজুমদার, নারী উদ্যোক্তা ও কবি তানিয়া সুলতানা এবং সংস্কৃতিকর্মী এস এম পারভেজ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈষম্য দূরীকরণ এবং সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের দাবিগুলো মানা না হলে বিষয়টি লিখিতভাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টাকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বর মাসে বড় পরিসরে জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here