পুলিশের গৌরব, দৃঢ়তা ও পেশাগত মর্যাদা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব

0
9

ডিআইজি রেজাউল করিমের প্রসঙ্গ: দায়িত্বশীল পুলিশিং, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক সমকালীন পাঠ
মো. কামাল উদ্দিন
সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
ডেপুটি এডিটর, দি ডেইলি টুরিস্ট
সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেস ক্লাব
একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অপরিসীম। আর সেই পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আত্মমর্যাদা, পেশাগত মনোবল ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনআস্থা। পুলিশ কেবল একটি বাহিনীর নাম নয়; এটি আইন প্রয়োগ, অপরাধ দমন, মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা এবং সংকটের মুহূর্তে নাগরিকের পাশে দাঁড়ানোর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি।
অতএব, পুলিশের কোনো কর্মকর্তা কিংবা সদস্যকে নিয়ে আলোচনা করতে হলে দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন অপরিহার্য। কোনো অভিযোগ থাকলে তার যথাযথ অনুসন্ধান হোক, কোনো ভুল হলে তার সংশোধন হোক, আর কোনো কর্মকর্তা সততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে তাঁর কাজের যথাযথ স্বীকৃতিও নিশ্চিত হোক। কারণ, ন্যায়বিচারের মানদণ্ড সবার জন্য সমান হওয়াই একটি সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত।
সম্প্রতি পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা নতুন করে পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাগত শিষ্টাচার এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রচার করা হচ্ছে, তিনি নাকি সাংবাদিকদের ক্যামেরা বন্ধ রাখতে বলেছেন। কিন্তু একটি বক্তব্যের প্রকৃত তাৎপর্য নির্ধারণ করতে হলে তার প্রেক্ষাপট, অনুষ্ঠানের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানা জরুরি।
আমার অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আয়োজনটি ছিল নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে ডিআইজির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের অনুষ্ঠান। যদি অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য সেটিই হয়ে থাকে, তাহলে একে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপট বোঝা প্রয়োজন। সৌজন্য সাক্ষাৎ, অভ্যন্তরীণ মতবিনিময় এবং সংবাদ সম্মেলন এক ধরনের আয়োজন নয়। প্রত্যেকটির উদ্দেশ্য ও পেশাগত রীতিনীতি আলাদা।
তবে ক্যামেরা বন্ধ রাখার বিষয়ে ঠিক কী বলা হয়েছিল, কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছিল এবং তার পেছনে কী কারণ ছিল, তা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সত্য সামনে আসতে পারে। কারণ, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা যেমন প্রশ্ন করার সাহস শেখায়, তেমনি অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত না করার নৈতিক শিক্ষাও দেয়।
পুলিশের মনোবল ভেঙে নয়, পেশাগত উৎকর্ষ বাড়িয়েই পুলিশের গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, পুলিশের একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব কেবল নির্দেশ পালন কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁকে একই সঙ্গে আইন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও জনস্বার্থের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়। একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিত্বের প্রকৃত দৃঢ়তা প্রকাশ পায় তখনই, যখন তিনি আইনসম্মত অবস্থানে অবিচল থাকেন, অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন না এবং নিজের দায়িত্ব পালনে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
ডিআইজি রেজাউল করিমকে ঘিরে আলোচনার মধ্যেও আমি সেই বৃহত্তর প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই। একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে মানুষ প্রত্যাশা করে বিচক্ষণতা, পেশাগত শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আইনের প্রতি অবিচল আনুগত্য। একইভাবে প্রত্যাশা করে, তিনি যেন অধীনস্থ সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলেন, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের সাহস জোগান এবং অপরাধ দমনে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখেন।
আমি বিশ্বাস করি, একজন পুলিশ কর্মকর্তার আত্মমর্যাদা রক্ষা করা মানে তাঁকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তুলে ধরা নয়। বরং তাঁকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া, তাঁর কাজকে ন্যায্যতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন। পুলিশের গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে সৎ কর্মকর্তারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে এবং সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার প্রত্যাশা করতে পারবে।
সাংবাদিকতা ও পুলিশের সম্পর্ক: সংঘাত নয়, পেশাগত মর্যাদার সহাবস্থান
একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, পুলিশ ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং জবাবদিহির ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পুলিশ প্রশাসন অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে গণমাধ্যম পুলিশের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করবে এবং জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরবে।
এ দুটি দায়িত্বের মধ্যে বিরোধ থাকা অনিবার্য নয়। বরং দায়িত্বশীল পুলিশিং ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একে অন্যের পরিপূরক হতে পারে।
সাংবাদিকের হাতে থাকা ক্যামেরা কেবল একটি যন্ত্র নয়; এটি মানুষের অধিকার, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ধারণের মাধ্যম। আবার পুলিশের প্রতিটি অনুষ্ঠানই যে সংবাদ সম্মেলন, এমন ধারণাও সঠিক নয়। কোনো আয়োজনের উদ্দেশ্য যদি হয় পরিচিতি ও সৌজন্য বিনিময়, তবে তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করলে তার কারণ ও প্রেক্ষাপটও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
এখানেই পেশাদারিত্বের প্রকৃত পরীক্ষা। সাংবাদিকের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, পুলিশের আইনসম্মত দায়িত্ব পালনের পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। কারও আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে অন্যের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা যায় না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যুক্তিসংগত আচরণের মধ্য দিয়েই সুস্থ কর্মসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শুধু একটি প্রেস কার্ড, ক্যামেরা কিংবা মাইক্রোফোন একজন মানুষকে দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে না। এর জন্য প্রয়োজন সংবাদবোধ, তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা, ভাষার সংযম, পেশাগত শিষ্টাচার এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। আবার পুলিশের পোশাক কিংবা পদমর্যাদাও কাউকে ভুলের ঊর্ধ্বে রাখে না। উভয় পেশার মর্যাদা রক্ষার জন্যই প্রয়োজন আত্মসমালোচনা, পেশাগত উৎকর্ষ এবং নৈতিক দৃঢ়তা।
পুলিশের গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্ব
পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা এক দিনে গড়ে ওঠে না। এই আস্থা তৈরি হয় প্রতিদিনের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ থানায় গিয়ে ন্যায়সংগত সহায়তা পেলেন কি না, একজন নিরপরাধ নাগরিক হয়রানি থেকে সুরক্ষা পেলেন কি না, অপরাধী প্রভাবশালী হলেও আইনের আওতায় এল কি না, কিংবা একজন সৎ পুলিশ সদস্য তাঁর সততার জন্য সম্মান পেলেন কি না, এসব অভিজ্ঞতার সমষ্টিতেই পুলিশের ভাবমূর্তি নির্মিত হয়।
পুলিশের গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন। দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাঁদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং অন্যায় নির্দেশ, অনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি থেকে বাহিনীকে মুক্ত রাখার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার রক্ষা, জনবান্ধব আচরণ এবং অপরাধ দমনে পেশাগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন নিজে শৃঙ্খলা, সততা ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, তখন তাঁর অধীনস্থ সদস্যরাও অনুপ্রাণিত হন। নেতৃত্বের শক্তি শুধু কঠোর নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে নয়; বরং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ন্যায়সংগত আচরণ, যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং সংকটের মুহূর্তে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মধ্যেই তার প্রকৃত পরিচয়।
এই জায়গা থেকেই ডিআইজি রেজাউল করিমের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তের যথাযথ মূল্যায়ন হোক তথ্যের ভিত্তিতে। তিনি যদি পেশাগত সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তবে সেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত অবশ্যই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। আর কোনো বিষয়ে প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে সেটিও যাচাই করা হোক ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায়। এটাই একজন কর্মকর্তার মর্যাদা এবং একটি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার সঠিক পথ।
আমি চাই, পুলিশের প্রতিটি সৎ সদস্য অনুভব করুন যে আইন মেনে দায়িত্ব পালন করলে তাঁর পাশে থাকবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, ন্যায়সংগত প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল সমাজ। তাঁরা যেন অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেন, আবার ক্ষমতার অপব্যবহার থেকেও দূরে থাকেন। তাঁদের সাহসের উৎস হোক আইন, তাঁদের শক্তির ভিত্তি হোক সততা এবং তাঁদের কর্মের লক্ষ্য হোক জনগণের নিরাপত্তা।
পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে আস্থার সেতু গড়ে উঠুক
পুলিশের বিরুদ্ধে অযাচাইকৃত অপপ্রচার যেমন অনভিপ্রেত, তেমনি পুলিশের কোনো ভুল বা অনিয়ম আড়াল করাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা মানে এক পক্ষকে অন্ধভাবে সমর্থন করা নয়; বরং তথ্য, যুক্তি ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি বিষয় মূল্যায়ন করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে একটি অসম্পূর্ণ বক্তব্য মুহূর্তেই বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। অথচ সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনার মানসিকতা। তাই ডিআইজি রেজাউল করিমকে ঘিরে আলোচনার ক্ষেত্রেও আমার আহ্বান, গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন না। যাচাই করুন, প্রেক্ষাপট জানুন, তারপর মতামত দিন।
পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষার অর্থ কোনো কর্মকর্তাকে সমালোচনার বাইরে রাখা নয়। বরং পুলিশের ইতিবাচক কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, সৎ সদস্যদের মনোবল বাড়ানো, ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জনগণের কাছে বাহিনীকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই এর প্রকৃত অর্থ।
একইভাবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার অর্থও দায়িত্বহীন আচরণকে সমর্থন করা নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহি, অধিকারের সঙ্গে দায়িত্ব এবং সমালোচনার সঙ্গে সত্যনিষ্ঠা যুক্ত থাকলেই গণমাধ্যম তার প্রকৃত শক্তি অর্জন করে।
আমার প্রত্যাশা: পুলিশ হোক মানুষের আস্থার প্রতীক
একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি চাই, পুলিশকে মানুষ ভয় নয়, আস্থার জায়গা থেকে দেখুক। একজন বিপন্ন নাগরিক যেন পুলিশের কাছে নিরাপত্তা পান, একজন নিরপরাধ মানুষ যেন ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে থানায় যেতে পারেন এবং অপরাধী যেন তার পরিচয় কিংবা প্রভাবের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ না পান।
আমি চাই, পুলিশের পোশাকের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল হোক দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতায়। সৎ কর্মকর্তারা তাঁদের কাজের স্বীকৃতি পান, দক্ষ নেতৃত্ব বাহিনীর মনোবল বাড়ায় এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়।
ডিআইজি রেজাউল করিমের প্রসঙ্গে আমার বক্তব্যও সেই বৃহত্তর প্রত্যাশার অংশ। তাঁর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো তাঁর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। তাঁর দৃঢ়তা যদি আইননিষ্ঠতা, সততা ও জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তা অন্য কর্মকর্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হতে পারে।
পুলিশের গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না; প্রয়োজন এমন সদস্য, যারা দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান থাকবেন; প্রয়োজন এমন গণমাধ্যম, যারা সত্যের প্রশ্নে আপসহীন থাকবে; আর প্রয়োজন এমন নাগরিক সমাজ, যারা ন্যায়সংগত কাজের প্রশংসা করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত অবস্থান নেবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, পুলিশের সম্মান ও জনগণের অধিকার পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে পুলিশও সম্মানিত হয়, নাগরিকও নিরাপদ থাকেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়, আর সত্যের চর্চা অব্যাহত থাকলে সমাজে আস্থা ফিরে আসে।
ডিআইজি রেজাউল করিমের প্রতি আমার প্রত্যাশা, তিনি পেশাগত সততা, দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে পুলিশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ভূমিকা রাখুন। তাঁর কাজ হোক তাঁর পরিচয়, তাঁর ন্যায়নিষ্ঠা হোক তাঁর শক্তি এবং জনগণের আস্থা অর্জন হোক তাঁর সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।
পুলিশের মনোবল ফিরে আসুক। সৎ ও সাহসী কর্মকর্তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক। অপরাধের বিরুদ্ধে আইনসম্মত অবস্থান আরও দৃঢ় হোক। পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে গড়ে উঠুক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা ও পেশাগত সহযোগিতার নতুন অধ্যায়।
কারণ, একটি গর্বিত পুলিশ বাহিনী মানে শুধু শক্তিশালী আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নয়; একটি গর্বিত পুলিশ বাহিনী মানে নিরাপদ নাগরিক, সুরক্ষিত অধিকার, প্রতিষ্ঠিত ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের অবিচল আস্থা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here