বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে টেলএন্ডার ব্যাটার ইয়ামিন আহমাদজাইকে ফিরিয়ে উইকেটের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে হাসানের খেলতে হয়েছে মাত্র ১৭টি ম্যাচ। এর আগে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ছিল তাসকিন আহমেদের, যিনি ১৮ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে লিটন দাসের ক্যাচের পর আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেক আউটের সিদ্ধান্ত দেন। তবে রিভিউ নেন আফগান ব্যাটার ইয়ামিন আহমাদজাই। আল্ট্রা এজে স্পাইক ধরা পড়লে আউট নিশ্চিত হয়। আর টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেট পেয়ে উচ্ছ্বাসে পিচে সিজদা করেন হাসান।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে দ্রুততম ৫০ উইকেটের তালিকায় এখন হাসানের পরেই রয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ১৯ ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁয়ে তালিকার পরের অবস্থানে আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।
শুধু উইকেটের অর্ধশতকই নয়, টেস্টে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন হাসান। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ডে এখন শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে হাসান। দুজনই চারবার করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
এই তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছেন রবিউল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দুজনই টেস্টে দুইবার করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
৫০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে আরও একটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। ইসমাত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমান আকবরকে পরপর তিন বলে ফিরিয়ে এই কীর্তি গড়েন হাসান। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে উইকেটগুলো পান তিনি।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি। এরপর ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী।
দ্রুততম ৫০ উইকেট, ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব এবং ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে স্মরণীয় এক অধ্যায় যোগ করলেন হাসান মাহমুদ।
