এক মণ মটর ডালে তৈরি হচ্ছে ২০ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা, ব্যয় ৩০ লাখ টাকা

0
6

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মটর ডাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ২০ ফুট উচ্চতার ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা। প্রতিমাটি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত এক মণ মটর ডাল। নির্মাণ ও সাজসজ্জা মিলিয়ে এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ছয়জন শিল্পীর তিন মাসের নিরলস পরিশ্রমে ফুটে উঠছে দৃষ্টিনন্দন এই প্রতিমা।

জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গামন্দিরে তৈরি হচ্ছে ব্যতিক্রমী এ প্রতিমা। মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশ, কাঠসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি কাঠামোর ওপর একের পর এক মটর ডাল বসিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রতিমাটি। শরীরজুড়ে ডালের নিখুঁত বিন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিক কারুকাজ। ডাল বসানোর কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে থাকে নানা আয়োজন ও বৈচিত্র্য। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন কারুকাজে সাজানো হয় মণ্ডপগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গামন্দিরে মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খুলনার পাইকগাছা থেকে আসা প্রধান প্রতিমাশিল্পী রাজিব সরদার গত পাঁচ বছর ধরে এই মন্দিরে প্রতিমা নির্মাণ করছেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী এবারই প্রথম মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

রাজিব সরদার বলেন, “প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। সাধারণত মাটি, রং আর তুলির আঁচড়ে প্রতিমাকে ফুটিয়ে তুলি। তবে এবার দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “কাজটি বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। প্রতিটি ডাল যত্ন করে বসাতে হচ্ছে, যাতে প্রতিমার সৌন্দর্য ও নিখুঁত কারুকাজ বজায় থাকে। প্রায় তিন মাস ধরে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে এবং দেশজুড়ে আলাদা পরিচিতি পাবে।”

প্রতিমা দেখতে আসা দর্শনার্থী ইতি ঘোষ বলেন, “এই মন্দিরে প্রতিবছরই প্রতিমা তৈরিতে নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়। এবার মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে, যা সত্যিই ব্যতিক্রমী। প্রতিমার কারুকাজ খুব সুন্দর হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের মুখের গড়ন আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এমন প্রতিমা সচরাচর দেখা যায় না।”

মন্দির কমিটির সভাপতি লালা ঘোষ বলেন, “আমরা প্রতি বছরই আমাদের মন্দিরে ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করি। গত বছর ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছিলাম। এবার সেই ধারাবাহিকতায় মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে অন্তত এক মণ ডাল লাগছে। প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জা মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।”

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ ঘোষ জানান, এ বছর জেলায় ১০২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। পূজা উপলক্ষে প্রতিটি মণ্ডপে চলছে প্রস্তুতি। সবার সহযোগিতায় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শরীয়তপুরে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জেলার ১০২টি মন্দির ও মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে এবারের দুর্গোৎসব। আয়োজকদের আশা, ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গামন্দিরের মটর ডালে তৈরি ২০ ফুট উচ্চতার প্রতিমাটি এবারের পূজার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here