আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদান ও ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ১০১ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বক্তব্য দেবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দুপুর ২টায় শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির আগমনের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর অতিথিদের বক্তব্যের পর নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অনুভূতি প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে। এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষকদের পাশে: পেশার সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি জাতি গঠনে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়াই এবারের দিবস উদযাপনের অন্যতম লক্ষ্য। সরকারের উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন, কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত আরও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন তালিকায়। প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জনের মধ্যে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ জন ও মাদরাসার ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ মাধ্যমিকের ১০ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন ও মাদরাসার ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার ১৫ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন এবং মাদরাসার ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মাননা পাচ্ছেন ২০ জন শিক্ষক। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষায় ৫ জন মেডিকেল কলেজ এবং ৫ জন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সম্মাননা পাবেন। এ ছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। গুণী শিক্ষক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গঠিত সার্চ কমিটি কাজ করেছে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে শিক্ষকের প্যানেল তৈরি করে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করার মধ্য দিয়ে এবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।
