দেশে সংকটের মাঝে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে সার

0
49

দেশে সার নিয়ে সংকট, কৃষকের বাড়তি দামে সার কেনার অভিযোগের মধ্যেই চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টাকালে ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ সার। মাত্র দুই দিনে চট্টগ্রামের হালিশহর ও সীতাকুণ্ডে পৃথক অভিযানে ৩১ দশমিক ৫ টন সার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এর আগে জুলাইয়ের শেষদিকে পতেঙ্গা উপকূল থেকে আরও ২২ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার মিয়ানমারে পাচারের সময় জব্দ করা হয়। সর্বশেষ বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে নগরীর হালিশহর থানার দারবিরখাল এলাকায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রামের অভিযানে ধরা পড়ে ১১ টন রাসায়নিক সারের চালান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি ট্রাক থেকে মাছ ধরার নৌযানে সার স্থানান্তরের সময় অভিযান চালানো হয়। পরে ২২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এসব বস্তায় মোট ১১ হাজার কেজি সার ছিল, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ সময় তিনজনকে আটক এবং সার পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জব্দ করা সার, ট্রাক ও আটক ব্যক্তিদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর একদিন আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্ট গার্ড। ৫০ কেজির হিসাবে এসব সারের পরিমাণ ২০ হাজার ৫০০ কেজি বা ২০ দশমিক ৫ টন। আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় একটি নৌযানও জব্দ করা হয়। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রামের দুই উপকূলীয় এলাকায় ৬৩০ বস্তা বা ৩১ দশমিক ৫ টন সার মিয়ানমারমুখী হওয়ার সময় ধরা পড়ে। এর আগে ৩০ জুলাই পতেঙ্গার বহির্নোঙর ও ১৫ নম্বর জেটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করে কোস্ট গার্ড। এসব সারের পরিমাণ ২২ হাজার ৫০০ কেজি বা ২২ দশমিক ৫ টন। মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় চালানটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একটি কার্গো বোটসহ ২৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। তিন দফা অভিযানে জব্দ হওয়া সারের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ টন। একই সময়ে দেশে সার নিয়ে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্রের কথা বলছেন কৃষকরা। বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়া, ডিলারদের কাছে সরবরাহ কম থাকা এবং খোলা বাজারে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে সার সংকট নেই,পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কিছু এলাকায় সরবরাহ ও বিতরণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকারের মজুত ও আমদানির হিসাবও বলছে, সার সরবরাহ ঠিক রাখতে বড় ধরনের প্রস্তুতি চলছে। ২ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি ও ৩০ হাজার টন টিএসপি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে আগস্টেও সৌদি আরব, রাশিয়া, মরক্কো, কানাডা ও কেএএফকো থেকে কয়েক লাখ টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার যখন কৃষকের চাহিদা পূরণে আমদানি বাড়াচ্ছে, তখন দেশের ভেতর থেকে সার মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা ধরা পড়ায় সরবরাহব্যবস্থার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উপকূলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক চালান ধরা পড়ায় শুধু বাহক বা নৌযান আটকের মধ্যে তদন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে এসব চালানের উৎস খুঁজে বের করার দাবি জোরালো হয়। চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here