শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-চীন সংযোগে বাড়বে কর্মসংস্থান: মাহদী আমিন

By admin
4 Min Read

শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের অংশীদারত্ব জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পেশাগত সম্ভাবনা বাড়াবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। চীনের গুয়াংডংয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন। কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। মাহদী আমিন বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা। এ লক্ষ্যে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখতে মান্দারিন বা চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করবে। মাহদী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে টেকসই করতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি ও আধুনিক লজিস্টিকসে দক্ষ জনশক্তি তৈরিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যারা বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে। দুই দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে নিয়মিত ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চীনা শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থানভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ আধুনিক প্রযুক্তির ল্যাব ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মাহদী আমিন চীনের শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে যৌথভাবে বিনিয়োগ এবং আধুনিক ল্যাব ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চীনের কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি টেকসই সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন চীনের শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকায়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি প্রযুক্তিগত শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষায় দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। চীনের ১১টি শীর্ষ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কলেজের যৌথ উদ্যোগে সিম্পোজিয়ামটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘চাইনিজ + ভোকেশনাল স্কিলস’ ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্স চালু করা। এর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষার সমন্বয়ে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা আরও জোরদার করে তা বাস্তব ও টেকসই অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Share This Article
Leave a Comment