প্রধানমন্ত্রীর হাত ছাড়া পুরস্কার নেবেন না মোহন রায়হান

By admin
2 Min Read

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে গিয়ে পদক গ্রহণ করেননি কবি মোহন রায়হান। তার দাবি, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণের বিষয়ে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র বা লিখিত চিঠি পাননি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই মর্যাদার সঙ্গে এই সম্মাননা নিতে চান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমিতে তাকে পদক প্রদান করা হবে। তবে রোববার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোহন রায়হান বলেন, তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে এবং ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে’ তিনি পুরস্কার গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পাওয়ায় সোমবার সকালে বাংলা একাডেমিতে যাননি। পুরস্কার গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহন রায়হান বলেন, তিনি সম্মাননা নিতে রাজি আছেন, তবে শর্ত একটাই—প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তা গ্রহণ করতে চান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না থাকার অভিযোগও করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘যেহেতু কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি, তাই পুরস্কার নিতে যাইনি।’ এদিকে বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, পদক প্রদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে ব্যানারসহ সব প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছিল। একাডেমি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, যেহেতু পুরস্কার স্থগিতের সিদ্ধান্ত সরকার থেকে এসেছিল, তাই পরবর্তী সিদ্ধান্তও সরকারিভাবেই জানানো হবে। এর আগে বাংলা একাডেমি চলতি বছরের সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকায় কবিতায় মোহন রায়হানের নাম ঘোষণা করে। সে অনুযায়ী তিনি বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। তবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। পরে তিনি পুরস্কার গ্রহণ না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে মন্ত্রণালয় পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সোমবার পুরস্কার প্রদানের কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তাকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ওঠায় তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কার প্রদান স্থগিত করে অভিযোগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। পরে অভিযোগ পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে ২০২৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় বলে জানানো হয়।

Share This Article
Leave a Comment