“চট্টলবন্ধু এস. এম. জামাল উদ্দিনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৮ জুলাই-

By admin
3 Min Read

চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা চট্টলবন্ধু আলহাজ্ব এস. এম. জামাল উদ্দিনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৮ জুলাই পালিত হবে। মরহুম এস. এম. জামাল উদ্দিন ছিলেন হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা গ্রামের কৃতী সন্তান। তিনি চট্টগ্রামের মুসলিম সমাজের শিক্ষাজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ, মাদার্শা গ্রামের প্রথম মুসলিম ডিগ্রিধারী ব্যক্তি ও চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুলের শিক্ষক হেদায়েত আলী মাস্টারের দ্বিতীয় পুত্র। জন্মের মাত্র এক বছর পরই পিতৃহারা হওয়ায় শৈশব থেকেই তাকে কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের বিভাগীয় শ্রম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণাপাঠকারী এম. এ. হান্নান। মহান মুক্তিযুদ্ধে এস. এম. জামাল উদ্দিন ছিলেন একজন সংগঠক ও সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় তিনি শ্রমিক সংগঠনকে দেশব্যাপী সুসংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধুর গঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)-এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর, যখন জাতীয়ভাবে শোক দিবস পালনের পরিবেশ ছিল না, তখনও এস. এম. জামাল উদ্দিন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে নিয়মিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করতেন এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচারে নিরলস ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ নেতা আবদুর রাজ্জাক বাকশাল পুনর্গঠন করলে এস. এম. জামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হাটহাজারী আসন থেকে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেছিলেন। রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন আপসহীন, সাহসী ও জনকল্যাণমুখী নেতা। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে ও উদাসীন স্বভাবের এই নেতা তাঁর পুরো পরিবারকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুনসুরাবাদ এলাকার খান বাহাদুর আব্দুল হাকিম মিয়ার বংশধর শফি মিয়ার কন্যাকে বিয়ে করেন। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে একজন চিকিৎসক। চট্টগ্রামের উন্নয়ন, আঞ্চলিক অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে এস. এম. জামাল উদ্দিনের অবদান আজও স্মরণীয়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের সব অবদান একটি সংক্ষিপ্ত লেখায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম, এস. এম. জামাল উদ্দিন স্মৃতি পরিষদসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ জুলাই সকাল ১০টায় হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা গ্রামে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে তাঁর সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।

Share This Article
Leave a Comment