ফজলে করিম চৌধুরীকে দেখে মনে হলো—সময়ের আদালতে কেউই অমর নয়-

By admin
3 Min Read
Untitled design - 1
 কয়েক দিন আগে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনার দৃশ্যটি দেখে আমি দীর্ঘক্ষণ নির্বাক হয়ে ছিলাম। একসময় যাঁকে ঘিরে ছিল ক্ষমতার প্রবল দাপট, শত শত অনুসারী, প্রশাসনিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিপত্তি—আজ তাঁকে অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় দেখে জীবনের এক নির্মম সত্য আবারও সামনে এসে দাঁড়াল।
জীবনের সবচেয়ে বড় বিচারক মানুষ নয়, সময়। সময় কখনো তাড়াহুড়া করে না, কিন্তু তার রায় একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। ক্ষমতা, অর্থ, প্রভাব, দাপট—সবই একদিন সময়ের কাছে মাথা নত করে।  আমার সাংবাদিকতা ও লেখালেখির দীর্ঘ পথচলায় এমন অনেক সময় এসেছে, যখন সত্য অনুসন্ধানের চেষ্টা আমাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। আমি বিশ্বাস করি, কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমার বিরুদ্ধে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ভয়ভীতি, হয়রানি এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমন সময়ও এসেছে, যখন নিজের জীবন নিয়েই গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছি। সেই দিনগুলো সহজ ছিল না। প্রতিটি সকাল শুরু হতো অনিশ্চয়তা নিয়ে, প্রতিটি রাত শেষ হতো মহান আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার প্রার্থনা করে। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের হাতে কোনো অস্ত্র থাকে না—তার একমাত্র শক্তি সত্য, বিবেক এবং কলম। আমি বিশ্বাস করি, যদি মহান আল্লাহর অশেষ রহমত না থাকত, তবে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। কঠিন সেই সময়ে দায়িত্বশীল কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তার পেশাদার ভূমিকা ও সহযোগিতাও আমাকে সাহস যুগিয়েছিল। তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আজও অটুট। আজ যখন অতীতের সেই ভয়াবহ সময়ের কথা মনে পড়ে এবং একই সঙ্গে ফজলে করিম চৌধুরীর বর্তমান অবস্থার কথা দেখি, তখন কোনো প্রতিশোধের আনন্দ অনুভব করি না। বরং জীবনের অনিত্যতা আমাকে আরও বেশি ভাবায়। ক্ষমতা মানুষকে অনেক কিছু করতে পারে বলে মনে করায়, কিন্তু সময় মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—সে কেবল একজন ক্ষণিকের পথিক। আমার এই লেখা কোনো ব্যক্তির দুর্দশায় আনন্দ প্রকাশের জন্য নয়। এটি জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে নেওয়া একটি শিক্ষা। যারা ক্ষমতার বলে অন্যকে ভয় দেখাতে চায়, অন্যায়ের মাধ্যমে মানুষকে দমিয়ে রাখতে চায়, তাদের সবারই মনে রাখা উচিত—ক্ষমতার মেয়াদ থাকে, কিন্তু কর্মের হিসাব থেকে যায়। আমি আজও বিশ্বাস করি, সত্যকে সাময়িকভাবে চাপা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু চিরদিনের জন্য নয়। একজন সাংবাদিকের কলম ভেঙে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সত্যের ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ন্যায়, সততা ও মানবিকতার পথে চলার তাওফিক দান করুন। তিনি যেন কাউকে ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ না করেন এবং কাউকে অন্যায়ের শিকারও না বানান। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পদ নয়, তার কর্ম। আর সময়—সেই কর্মের সবচেয়ে নিরপেক্ষ বিচারক।
Share This Article
Leave a Comment