“আন্তর্জাতিক মানের ক্লাব গঠনের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে দি কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেড”

By admin
5 Min Read
-প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় খোরশেদ আলমের যুগোপযোগী দিকনির্দেশনা; অভিষেক অনুষ্ঠান, স্মরণিকা প্রকাশ, স্থায়ী কার্যালয় ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার রূপরেখা- কক্সবাজারের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক ও পেশাজীবী সমাজের ঐতিহ্যবাহী মিলনমঞ্চ দি কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেড-এর নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভা গত ৩ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় কক্সবাজারের শৈবাল সাগরিকা রেস্তোরাঁয় উৎসবমুখর, আন্তরিক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি আবু সৈয়দ এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন। নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় ক্লাবের সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন সকল সদস্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দি কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেড শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি কক্সবাজারের সম্মান, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। তিনি বলেন, নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একটি সুপরিকল্পিত, জবাবদিহিমূলক, আধুনিক ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় ক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। এরপর সভায় পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচি অনুযায়ী উপকমিটি গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন, অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব, প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপদেষ্টাদের সম্মতি গ্রহণ, সম্মানসূচক সদস্য মনোনয়ন, সদস্য চাঁদা আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা, স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ক্লাবের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে ক্লাবের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট সংগঠক খোরশেদ আলম-এর বক্তব্য। তিনি বলেন, কক্সবাজার যেহেতু আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী, তাই এখানকার একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কার্যক্রমও হতে হবে বিশ্বমানের। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছ প্রশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠান সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারে। তিনি ক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজনে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ক্লাবের ইতিহাস, লক্ষ্য, অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সদস্যদের পরিচিতি এবং কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে একটি মানসম্মত স্মরণিকা প্রকাশের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, একটি ভালো স্মরণিকা কেবল একটি প্রকাশনা নয়; এটি একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও ভবিষ্যতের দলিল। খোরশেদ আলম আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। তাই ক্লাবের জন্য একটি আধুনিক ওয়েবসাইট, ডিজিটাল সদস্য তথ্যভান্ডার, অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা, ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে ক্লাবের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি কক্সবাজারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বলেন, দি কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। ক্লাবকে একটি আধুনিক, সেবামুখী, সুশাসিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে তাঁর অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। সভায় উপস্থিত সদস্যরা তাঁর বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী বলে অভিহিত করেন। তাঁরা মত প্রকাশ করেন যে, পরিকল্পিত নেতৃত্ব, সদস্যদের আন্তরিকতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ক্লাবকে দেশের অন্যতম আদর্শ সামাজিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব। আলোচনায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ক্লাবের কার্যক্রমকে কেবল আনুষ্ঠানিক সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পর্যটন উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সদস্যদের জন্য মানসম্মত সেবা, প্রশিক্ষণ, পারিবারিক মিলনমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভাপতি আবু সৈয়দ তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি সংগঠনের শক্তি তার সদস্যদের ঐক্য, আস্থা ও অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। তিনি সকলকে ব্যক্তিগত মতভেদ ভুলে ক্লাবের বৃহত্তর স্বার্থে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের উদ্যোগে ক্লাব আরও সুশৃঙ্খল, গতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সভায় গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ক্লাবের সফলতার মূল ভিত্তি। দীর্ঘ আলোচনা, মুক্ত মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাটি নতুন নেতৃত্বের জন্য এক আশাব্যঞ্জক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ক্লাবকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সভাপতি আবু সৈয়দ-এর নেতৃত্ব, সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন-এর সাংগঠনিক দক্ষতা, কার্যনির্বাহী পরিষদের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং খোরশেদ আলম-এর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দি কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেড আগামী দিনে কক্সবাজারের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ, আধুনিক ও অনুকরণীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করবে।
Share This Article
Leave a Comment