দেশে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার টন অতিক্রম

By admin
4 Min Read

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত বর্তমানে সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন পর্যন্ত ফ্লোটিং (ভাসমান) মজুতসহ দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ টন। খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি গুদামে চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ টন, গমের মজুত ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ টন এবং ধানের মজুত ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ টন। ফ্লোটিং মজুত বাদ দিলে মোট মজুতের পরিমাণ হয় ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ টন। এর সঙ্গে গমের ২০ হাজার ৪৩২ টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ টন ভাসমান মজুত যুক্ত হয়ে মোট মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ টনে পৌঁছেছে। ধানের মজুতকে চালে রূপান্তর করেই এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান জোরদারভাবে চলমান রয়েছে। ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ টন ধান, ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ টন সিদ্ধ চাল, ৩১ হাজার ৯৬৮ টন আতপ চাল এবং ৪৯৪ টন গম। ধানকে ১০০:৬৫ অনুপাতে চালে রূপান্তর করে মোট সংগ্রহের হিসাব করা হয়েছে। এদিকে, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫৭ টন। খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিকভাবে আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য, যার মধ্যে ৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন গম। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সহায়তা হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি। শুধু ১৭ জুন ২০২৬ তারিখেই দেশে ৫ হাজার ১২০ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম দেশে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান মজুত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, নিরাপদ খাদ্য মজুতের জন্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য প্রয়োজন হয়। বর্তমানে মজুতের পরিমাণ সেই সীমার অনেক ওপরে থাকায় দেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন জানান, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমান খাদ্য মজুত অত্যন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, চলমান বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহ অব্যাহত থাকায় আগামী মাসগুলোতে খাদ্য মজুত আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, গত ৩ মে শুরু হওয়া খাদ্য সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এ সময় ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তিনি আরও বলেন, আমদানি ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আগামী দিনগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত আরও শক্তিশালী হবে।

Share This Article
Leave a Comment