
ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর উচ্ছ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত হলো এক স্মরণীয় সন্ধ্যা— চট্টগ্রাম সমিতি কর্তৃক ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনকে প্রদত্ত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা।
চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইনকের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভা শুধু একটি সম্মাননা অনুষ্ঠান নয়—বরং চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের দীর্ঘ তিন দশকের সংগ্রামকে নতুন করে উজ্জীবিত করার দৃঢ় অঙ্গীকারে ভরপুর একটি আন্তর্জাতিক সমাবেশ।
গত ১২ নভেম্বর, চট্টগ্রাম সমিতির নিজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের।নসঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
অতিথি ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন—চট্টগ্রাম সমিতির দুইবারের সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হানিফ, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক কো-চেয়ারম্যান শামসুল আলম চৌধুরী, সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম।
অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আনন্দ, গর্ব ও সম্মানের আবহ। ঠান্ডা দেশের উষ্ণ মানুষগুলো শুনলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের তিন দশকের লড়াই, স্বপ্ন ও সাফল্যের গল্প। ব্যারিস্টার মনোয়ার আবেগময় কণ্ঠে বলেন— “চট্টগ্রাম এখনো বহু ক্ষেত্রে অবহেলিত। মেগা প্রকল্প, বন্দরনির্ভর অর্থনীতি, সমুদ্রনগরীর সম্ভাবনা—সব কিছুর কেন্দ্রেই থাকা উচিত একটি ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনা। দেশে-বিদেশে থাকা চট্টগ্রামবাসীদের একই ছাতার নিচে আনতে হবে—এটাই সময়ের দাবি।” তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামবাসীদের মাঝে বড় পরিসরে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ মহামারীর কারণে থেমে গিয়েছিল। এখন তিনি চান সেই উদ্যোগ আবার সচল হোক। উপস্থিত সবাই এক বাক্যে সমর্থন জানান।চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন—“সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৭ বছর ধরে হাজার হাজার কোটি টাকার যে মেগা প্রকল্প চলছে— এটি সফল করতে সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতেই হবে। এই সমন্বয় না হলে চট্টগ্রামবাসী কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না।”নচট্টগ্রামের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কালুরঘাট নতুন সেতু দ্রুত নির্মাণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন— “বন্দরনগরীর প্রাণচক্র দক্ষিণ চট্টগ্রাম—এই সেতু ছাড়া উন্নয়ন অসম্পূর্ণ।
সরকারকে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে।”
সভায় বক্তারা বলেন—আশির দশকে ব্যারিস্টার মনোয়ারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি যদি আন্দোলন না করত, চট্টগ্রাম আরও বহু বছর পিছিয়ে থাকত। তারা স্মরণ করিয়ে দেন—
“এই আন্দোলনের কেউ পদ, ক্ষমতা বা সুবিধা চাননি।
বরং তাঁদের ত্যাগের বিনিময়েই চট্টগ্রামের উন্নয়ন আলোচ্যসূচিতে এসেছে।” সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন— “ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে অবদান রেখে চলেছেন, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের গর্ব বাড়িয়েছে। আমরা বিশ্বব্যাপী চট্টগ্রাম সমিতিগুলোর মধ্যে যোগসূত্র তৈরির উদ্যোগ নেব। আন্তর্জাতিক চট্টগ্রাম উৎসব আয়োজনের স্বপ্নও খুব শিগগির বাস্তবতা হবে।” সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— এনাম চৌধুরী, কামাল হোসেন মিঠু, খোকন কে চৌধুরী, হাজী টি আলম, সাইফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, এডভোকেট আবদুল হামিদ, নওশাদ কামাল, পল্লব রায়, মাস্টার কলিমুল্লাহ, কাজী ইকবাল, কাজী ইমরান, মোহাম্মদ তারেকসহ বহু প্রবাসী চট্টগ্রামপ্রেমিক। আলোচনা শেষে সবার জন্য পরিবেশন করা হয় নৈশভোজ। সৌহার্দ্য, ঐক্য ও চট্টগ্রামপ্রেমে ভরা এ আয়োজন প্রবাসী সমাজে রাখল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নিউ ইয়র্কের এই অভূতপূর্ব সমাবেশ স্পষ্ট করেছে— চট্টগ্রামের উন্নয়ন আর শুধু একটি অঞ্চলের দাবি নয়, এটি এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ প্রবাসী চাঁটগাঁবাসীর সমন্বিত স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্ব ও সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে অবিচল অঙ্গীকারে।