চারুকলার বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রায়’ নতুন বছরকে বরণ

By admin
2 Min Read

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন বাংলা সন ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজন করেছে ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ থানার সামনে থেকে ঘুরে রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় সকাল ৯টা ৩ মিনিটে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর রঙিন সাজে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা শোভাযাত্রায় যোগ দেন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের ঢল নামে, পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। নিরাপত্তার কারণে এবার মুখোশ পরা নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণকারীরা চারুকলার তৈরি মুখোশ হাতে প্রদর্শন করেন। এবারের শোভাযাত্রায় বাংলার লোকঐতিহ্য ও সমসাময়িক বাস্তবতার সমন্বয়ে পাঁচটি প্রধান প্রতীক তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ‘মোরগ’ ছিল নতুন ভোর ও জাগরণের প্রতীক, যা দীর্ঘ সময় পর গণতন্ত্রের নতুন যাত্রাকে নির্দেশ করে। এ বিষয়ে চারুকলার ডিন আজহারুল ইসলাম শেখ জানান, দীর্ঘ দুঃসময়ের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সূর্যোদয়ের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ‘মোরগ’ সেই আশার প্রতীক হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া শোভাযাত্রায় ছিল ‘দোতারা’, যা বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও লোকসংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে; ‘পায়রা’, যা শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা দেয়; ‘কাঠের হাতি’, যা লোকশিল্পের ঐতিহ্য বহন করে; এবং ‘টেপা ঘোড়া’, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শোভাযাত্রার সামনের অংশে ছিল পুলিশের সুসজ্জিত ১২টি ঘোড়া এবং এর পরেই প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। ‘এসো হে বৈশাখ’সহ দেশাত্মবোধক গানের সুরে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি প্রাঙ্গণে লোকজ সংগীত ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটে। চারুকলার এই আয়োজন কেবল উৎসব নয়, বরং অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার এক দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে এবারের পহেলা বৈশাখ।

Share This Article
Leave a Comment