
-মো.মুজিবুর রহমান, ঢাকা:
২০১৬ সালে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে CNS Ltd-কে ৫ বছরের টোল আদায় কার্যাদেশ প্রদান করা হয়, যা পূর্বের টেন্ডার বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের জন্য মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনে। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সচিবগণসহ CNS Ltd পরিচালকদের নামে শাস্তিযোগ্য অপরাধের উল্লেখ। ঢাকা, ২০২৫ – মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (CNS Ltd) কে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরকারের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং যোগসাজশের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে CNS Ltd কে ৫ বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্বের টেন্ডার বাতিল করা হয়। এতে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা না করে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে CNS Ltd কে প্রাধান্য দেয়া হয়।
তথ্য অনুযায়ী, CNS Ltd কে মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫% হারে সার্ভিস চার্জ আদায়ের অনুমোদন দেয়া হয়, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারী তহবিলে ৪৮৯,৪৩,৭৩,০০০/- (চারশত উননব্বই কোটি তেতাল্লিশ লক্ষ তিয়াত্তর হাজার) টাকা পৌঁছায়। অন্যদিকে, ২০১০-২০১৫ সালের পাঁচ বছরে MBEL-ATT যৌথ উদ্যোগ কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে মাত্র ১৫,৫৮,৬৭,৯১২/- টাকা খরচে কার্যাদেশ পেয়েছিল।
CNS Ltd কর্তৃক নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামোর খরচ ছিল ৬৭,৪৩,০৮,০০০/- (সাতষট্টি কোটি তেতাল্লিশ লক্ষ আট হাজার)। এরপর ২০২২-২০২৫ সালের জন্য ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে নিয়োগ প্রদান করা হয় ৬৭,৫৪,১১,৪৬৬.৩০/- টাকায়, যা পাঁচ বছরের হিসাবে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় ১১২,৫৮,১৯,১১০/- টাকা।
এই হিসাব অনুযায়ী, CNS Ltd কে কার্যাদেশ দেওয়ার ফলে সরকারের ক্ষতি দাঁড়িয়েছে:
৪৮৯,৪৩,৭৩,০০০ – ১১২,৫৮,১৯,১১০ – ৬৭,৪৩,০৮,০০০ = ৩০৯,৪২,৪৫,৮৯০/-
যা প্রমাণ করে, একক উৎসভিত্তিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সাবেক মন্ত্রী: আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, এম. এ. মান্নান
সাবেক সচিব ও কর্মকর্তারা: এম. এ. এন. ছিদ্দিক, মোঃ ফারুক জলীল, মোঃ শফিকুল করিম, মোঃ ফিরোজ ইকবাল, মোঃ আব্দুস সালাম, ইবনে আলম হাসান
CNS Ltd পরিচালকগণ: মুনীর উজ জামান চৌধুরী, মিসেস সেলিনা চৌধুরী, ইকরাম ইকবাল
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে সরকারের ক্ষমতা অপব্যবহার করে নিজস্ব বা অন্যের লাভের উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। এটি দন্ডবিধি ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কেলেঙ্কারি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং দেশের সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্যও বড় সংকেত। এ ধরনের অপব্যবহার জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করে এবং টোল ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা হ্রাস করে।