
— মো: কামাল উদ্দিন
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে যাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল ও সুপরিচিত নাম অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) নাজমুল হাসান, পিপিএম। তিনি দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীন ১১টি জেলার বিস্তৃত প্রশাসনিক এলাকা—যেখানে রয়েছে পাহাড়, উপকূল, গ্রামীণ জনপদ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল—এই সমগ্র অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত জটিল ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ। এই বহুমাত্রিক বাস্তবতায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র উদ্ধার এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে। দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর ভূমিকা নাজমুল হাসান, পিপিএম-এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের কার্যক্রমে এসেছে গতি, সমন্বয় ও পেশাদারিত্ব। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে তাঁর নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা আরও সক্রিয় ও দক্ষভাবে কাজ করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু কঠোর পদক্ষেপ নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার মধ্য দিয়েই একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। জাতীয় নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীলতা জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সুপরিকল্পিত ও কার্যকর। ভোটকেন্দ্র, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং জনসমাগমস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর নির্দেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর পেশাদার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেখানে বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা বিদ্যমান। এই অঞ্চলে বৈশাখী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নাজমুল হাসান, পিপিএম এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উৎসব যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। মাদক, অস্ত্র ও অপরাধ দমনে অগ্রগতি চট্টগ্রাম রেঞ্জ এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র একটি বড় সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনছে। সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য মতবিনিময় সম্প্রতি তিনি “দ্যা টুরিস্ট পত্রিকা”, “চট্রল চিত্র পত্রিকা” এবং “মাল্টিমিডিয়া নিউজ” এর প্রতিনিধিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এই আলোচনায় তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের কার্যক্রম, পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তিনি সাংবাদিকদের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, গণমাধ্যম ও পুলিশ একসাথে কাজ করলে সমাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পায়। নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শুভেচ্ছা বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের সকল জেলা—বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে—ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিসি হিল, সিআরবি, জেলা শহর ও পার্বত্য এলাকার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। নাজমুল হাসান, পিপিএম নববর্ষ উপলক্ষে বলেন— “নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নতুন আশার প্রতীক। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীও এই উৎসবের অংশীদার। সাধারণ মানুষের মতোই পুলিশ সদস্যরাও নববর্ষের আনন্দ ও সৌহার্দ্যকে দায়িত্বশীলতার সাথে উপভোগ করে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের নববর্ষ শুভেচ্ছা চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে তিনি সকল পুলিশ সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং সমগ্র জনগণকে জানিয়েছেন আন্তরিক নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তিনি বলেন, নববর্ষ আমাদের নতুন অঙ্গীকারের প্রতীক—শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। উপসংহার অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) নাজমুল হাসান, পিপিএম তাঁর দায়িত্ব, দক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। ১১টি জেলার বিস্তৃত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা থেকে শুরু করে সমগ্র রেঞ্জের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব স্পষ্ট। নববর্ষের এই শুভক্ষণে তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অঙ্গীকার—শান্তি, নিরাপত্তা, সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের এক সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা।