নাটকীয় মোড়ে শেষ সময়ে ধানের শীষে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগ নেতা জসিম

By admin
4 Min Read

এম এ রাশেদ নানা জল্পনা শেষে নাটকীয় ভাবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমদকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় তাঁকে দলের প্রার্থী ঘোষণার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের নানাভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে।তাঁদের অভিযোগ, জসিমের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য ছিল। এমন পোষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালে মে মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম ১৪ আসনে জোটের বহালে এলডিপিকে ছেড়ে দেয়ার গুঞ্জনে বিএনপি প্রার্থী এবং সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়লে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য হতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ভাইস প্রসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক মানবোধিকার কমিশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম রাজু এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, বিএনপির যে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। টক শোর মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়া তা ফলোআপ করে প্রচার করা হয়। আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক জসিমকে হঠাৎ মনোনয়ন দেয়ার কারণে নেতা কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে যে আগুন ধাউ ধাউ করে ঝলছে মনে হয়না সে আগুন নিভবে। বিএনপি প্রার্থীরা বহিস্কারের ভয়ে চুপ থাকলেও তারা জসিম উদ্দিনকে মনে প্রাণে কখনো মেনে নিবেনা এমনটা মন্তব্য করছেন অনেকে। কারণ এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বিএনপি ছেড়ে যাওয়ার পর এলাকায় একটি কমিটিও ছিল না। এরপর নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করে বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন তাঁরা। অথচ বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে জসিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান বিএনপি নেতা কর্মীরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট জসিমের মনোনয়ন বিবেচনারও অনুরোধ জানান স্বৈরচার সরকারের শাসন আমলে নির্যাতিত নেতা কর্মীরা। অনেকে পোষ্ট করেছেন জসিম বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে দফা রফা করে মনোনয়ন নিয়েছেন। জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন জসিম উদ্দিন। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. দুর্জয় আহম্মেদ (২৮) গত বছরের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ করে মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোস্ট অফিস গলি মাথায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় আওয়ামী লীগের ‘শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায়’ তাদের অনুসারীরা এলোপাতাড়ি গুলি করলে বাদীর দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া মাথায় পেছনেও গুরুতর আঘাত পান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের নামে মামলাটি দায়ের করা হয়। সেখানে জসিম উদ্দিন আহমেদকে ২১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১০ জুলাই পদ্মা ব্যাংকের ঋণখেলাপির এক মামলায় চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত জসিম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী তানজিনা সুলতানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তারও আগে গত ৩০ এপ্রিল ঋণখেলাপির মামলায় জসিম ও তাঁর স্ত্রীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ আনতে জসিম উদ্দিন হাইকোর্টে যান। ঋণের ১৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন জানিয়ে সেখানে তিনি জাল পে-অর্ডারের ফটোকপি দেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জামিন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর তাঁর জামিন বাতিল করে হাইকোর্ট। এমন অবস্থায় একজন সুবিধাবাদী, আওয়ামীলীগার ও দুর্নীতিবাজ জসিম উদ্দিনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার জন্য জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন চট্টগ্রাম ১৪ আসনের বিএনপির নেতা কর্মীরা।

Share This Article
Leave a Comment