
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের কঠোর নজরদারি ও পেশাদার অভিযানের ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালী থানা পুলিশ আবারও প্রমাণ করল—অপরাধের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন। সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ)-এর তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফতাব উদ্দিনের দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ এক কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোঃ কাজী মনিরুল করিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ইংরেজি ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখ ভোররাত ৪.১০ থেকে ৫.৫০ ঘটিকার মধ্যে কোতোয়ালী থানাধীন সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ীর অধীন লালখান বাজার থেকে টাইগারপাসগামী সড়কের পাশে টাইগারপাস এজেন্সি লিমিটেড গ্যাসলিং ফিলিং স্টেশনের সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ পাশে পাহাড়ের নিচে অভিযান চালিয়ে মোঃ মনির (২৮) নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীর হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ১টি লোহার তৈরি কাঠের বাটযুক্ত দেশীয় একনলা বন্দুক (ফায়ারিং পিন ও ট্রিগার সংযুক্ত) বন্দুকটির মোট দৈর্ঘ্য ২৪ ইঞ্চি, কাঠের বাট ৫ ইঞ্চি, লোহার অংশ ১৯ ইঞ্চি ২টি তাজা কার্তুজ, যার মাথার ক্যাপে সোনালী রঙে ইংরেজিতে লেখা “RC 12 ITALY” গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মনির, পিতা—মৃত আবু তাহের প্রকাশ কাশেম, মাতা—নাসিমা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা—চেয়ারম্যান ঘাটা, মোরশেদ মাঝির বাড়ি, থানা—হাতিয়া, জেলা—নোয়াখালী। বর্তমানে সে কোতোয়ালী থানাধীন ৭ নম্বর বাস পার্কিং এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করছিল। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানার মামলা নং-১০, তারিখ ০৫/০১/২০২৬ খ্রি., ধারা—The Arms Act 1878 এর 19A ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দীর্ঘ অপরাধ ইতিহাস : এক ভয়ংকর সন্ত্রাসীর মুখোশ উন্মোচন পুলিশি যাচাইয়ে জানা যায়, মোঃ মনির একজন পেশাদার ও অভ্যাসগত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী, বাকলিয়া ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি (৩৯৯/৪০২), অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনে মোট ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মাধ্যমে তার অপরাধপ্রবণ চরিত্র ও সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওসি আফতাব উদ্দিন : কোতোয়ালীর অপরাধ দমনে নির্ভরতার নাম এই সফল অভিযানের পেছনে রয়েছে ওসি মোঃ আফতাব উদ্দিনের নিরলস তৎপরতা, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক কৌশল এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সুসমন্বয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি কোতোয়ালী থানা এলাকায় সন্ত্রাস, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছেন। নিয়মিত অভিযান, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও পেশাদার পুলিশিংয়ের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এই গ্রেফতার শুধু একটি অস্ত্র উদ্ধার নয়—এটি কোতোয়ালী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। নগরবাসীর প্রত্যাশা, ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ভবিষ্যতেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ও সাহসী ভূমিকা অব্যাহত রাখবে, আর চট্টগ্রাম নগরী আরও নিরাপদ হয়ে