
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
আমার অপূর্ণতার মধ্যেই পথ চলার কথার কথা ভাবতে গিয়ে মনে পড়লো সেই দিনের কথা-আমি লেখা লিখতে শুরু করেছিলাম আশির দশকের শেষ প্রান্তে—১৯৮৮ সালের দিকে। সময়ের হিসাবে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি। তবু আজও বিনয়ের সঙ্গে বলতে দ্বিধা করি না আমি এখনো পরিপূর্ণ লেখক হয়ে উঠতে পারিনি। হয়তো এই অপূর্ণতার বোধই আমাকে প্রতিদিন কলম ধরতে বাধ্য করে, নিজেকে নতুন করে প্রশ্ন করতে শেখায়। দীর্ঘ এই সময়ের লেখালেখির ফসল হিসেবে এখন পর্যন্ত আমার সৃষ্টি হয়েছে মাত্র তিরিশটির মতো বই। সংখ্যার বিচারে তা খুব বেশি নয়, কিন্তু আমার কাছে লেখালেখি কখনোই সংখ্যার হিসাব ছিল না ছিল দায়িত্বের। সাংবাদিকতা শুরু করেছি নব্বইয়ের দশকে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্ভীক, আপোষহীন মনোভাব নিয়ে এই পেশার ভেতর দিয়ে হাঁটছি। অপরাধ, রাজনীতি, সমাজের অন্ধকার দিক সবকিছুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবু আজও আমি নিজেকে পরিপূর্ণ সাংবাদিক ভাবতে পারি না। কারণ সাংবাদিকতা কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নয়; এটি এক ধরনের নিত্যদিনের আত্মপরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি সংবাদ নিজের বিবেকের কাছে দাঁড় করাতে হয়। টেলিভিশন উপস্থাপনায় যুক্ত হই ২০১৫ সালে। অল্প সময়ের মধ্যেই সারা দেশের দর্শকের কাছে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছি। কিন্তু এখানেও আমি নিজের কাছে সৎ থেকে বলি আমি এখনো শিখছি। জনপ্রিয়তা কখনো পরিপূর্ণতার মানদণ্ড হতে পারে না; বরং তা দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। লেখালেখির পথচলায় কিছু কাজ আমাকে আলাদা করে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ২০১০ সালে শৈলী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত আমার বই “বাংলাদেশের নির্বাচন ও নির্বাচনি তথ্য উপাত্ত” চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে রেফারেন্স বই হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এটি আমার জন্য শুধু সম্মান নয়, বরং দায় আরও গভীর করার এক উপলক্ষ। ২০২৫ সালের বইমেলায় আবির প্রকাশন থেকে প্রকাশিত “সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কথা”—ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব পেয়েছে। একজন লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে এটি আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। নারীজীবন ও সমাজ নিয়ে লেখা “নারী কথা” কোরিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়ে আলোচনায় এসেছে। আর যৌনকর্মীদের জীবনবাস্তবতা নিয়ে গবেষণামূলক বই “তাহাদের কথা” যা শৈলী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত—বিশ্বের অন্তত দশটির মতো আন্তর্জাতিক এনজিও তাদের গবেষণা ও নথিভুক্ত কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই কাজগুলো আমাকে শিখিয়েছে—লেখা যদি সত্যনিষ্ঠ হয়, তবে তা সীমান্ত মানে না। প্রতিদিন নিয়মিত লেখালেখির মধ্য দিয়ে আমি দেখেছি শত শত তরুণ সাংবাদিকতায় আসার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। অথচ এই দীর্ঘ পথচলার পরও কিছু মানুষ, যাদের সাংবাদিকতা, গবেষণা কিংবা টেলিভিশন উপস্থাপনা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই, অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছে। আমি এসবকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নিই না। সময়ের বাস্তবতায় এসবও এক ধরনের শব্দমাত্র। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি আমি বিশ্ব লেখক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল-এর একজন সদস্য। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এ পর্যন্ত ২৮টি দেশের মাটিতে প্রায় অর্ধশতাধিকবার লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। এই পথচলার জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে গভীর কৃতজ্ঞ। আজ এই কলাম লিখছি কোনো আত্মপ্রশংসার জন্য নয়। বরং নিজের অপূর্ণতাকে সামনে রেখেই বলছি আমি এখনো শিখছি। লেখক হিসেবে, সাংবাদিক হিসেবে, উপস্থাপক হিসেবে। আর সেই শেখার দায়বদ্ধতা থেকেই বহির্বিশ্বের সাংবাদিকতা, সাংবাদিকদের সংখ্যা ও বাস্তবতা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি পূর্ণতা নয়, সত্যের প্রতি সততাই একজন লেখক ও সাংবাদিকের আসল পরিচয়। জনসংখ্যার ভিড়ে সাংবাদিকতার ভিড়
বিশ্ব বাস্তবতা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও বৈধ–অবৈধ সাংবাদিকতার কঠিন প্রশ্ন পৃথিবীর অনেক দেশে সাংবাদিক হওয়া মানে একটি দীর্ঘ প্রস্তুতি, নৈতিক পরীক্ষার ভেতর দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া এবং সমাজের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি দায়িত্ব গ্রহণ করা। আবার কিছু দেশে এই পরিচয়টি এতটাই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে যে—একটি ভিজিটিং কার্ড, একটি ফেসবুক আইডি কিংবা একটি ভুয়া প্রেস কার্ডই যথেষ্ট হয়ে যায় নিজেকে সাংবাদিক ঘোষণা করার জন্য। এই বৈপরীত্যের মাঝখানেই আজ বিশ্ব সাংবাদিকতা দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বে জনসংখ্যার তুলনায় সাংবাদিক বেশি যেখানে বিশ্বের কয়েকটি ছোট ও গণতান্ত্রিক দেশে জনসংখ্যার তুলনায় সাংবাদিকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। উদাহরণ হিসেবে মঙ্গোলিয়ার কথা বলা যায়। মাত্র ত্রিশ পঁয়ত্রিশ লাখ মানুষের দেশে পাঁচ হাজারেরও বেশি সাংবাদিক কাজ করেন। আইসল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও জনসংখ্যার অনুপাতে সাংবাদিকতার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে এসব দেশে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট—সেখানে প্রায় সবাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বৈধ, প্রশিক্ষিত এবং পেশাগত নীতিমালার আওতায় পরিচালিত। জাপান, জার্মানি কিংবা ফ্রান্সের মতো দেশগুলোতে সাংবাদিক হওয়া আরও কঠিন। নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, মিডিয়া হাউসের স্বীকৃতি এবং দীর্ঘ সময়ের পেশাগত অভিজ্ঞতা ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া যায় না। সেখানে সংখ্যার চেয়ে গুরুত্ব পায় গুণগত মান ও দায়িত্ববোধ। বাংলাদেশ: সংখ্যা আছে, হিসাব নেই বাংলাদেশে এসে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ঠিক কতজন সাংবাদিক আছেন—তার কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, দেশে লক্ষাধিক মানুষ কোনো না কোনোভাবে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন। কিন্তু তাদের বড় একটি অংশের সঙ্গে কোনো নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যমের নিয়মিত সম্পর্ক নেই, নেই বেতন কাঠামো, নেই পেশাগত প্রশিক্ষণ বা সম্পাদকীয় জবাবদিহি। এখানেই তৈরি হয় সবচেয়ে বড় সংকট বৈধ ও অবৈধ সাংবাদিকতার বিভাজন। কারা বৈধ সাংবাদিক বৈধ সাংবাদিক হলেন তারা যারা নিবন্ধিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন বা মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যাদের রয়েছে নিয়োগপত্র, সম্পাদকীয় তত্ত্বাবধান ও দায়িত্ব যারা নিয়মিত রিপোর্টিং, সম্পাদনা বা সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত যারা আইন, নৈতিকতা ও পেশাগত শৃঙ্খলার ভেতর থেকে কাজ করেন কারা অবৈধ বা স্বঘোষিত সাংবাদিক অন্যদিকে অবৈধ বা স্বঘোষিত সাংবাদিকরা কোনো নিবন্ধিত মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন ভুয়া প্রেস কার্ড বা ফেইক আইডি ব্যবহার করেন সংবাদ নয়, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনকে পেশা বানান মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন প্রকৃত সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ান দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই শ্রেণির কারণেই আজ প্রকৃত সাংবাদিকদেরও সাধারণ মানুষ সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছে। কেন এই সংকট ভয়ংকর সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়—এটি রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক আয়না। এই আয়নায় যখন ভুয়া মুখোশ পড়ে যায়, তখন সত্য বিকৃত হয়, অপরাধীরা আড়ালে থেকে যায় এবং যারা সত্য লিখতে চায়, তারা হয়ে ওঠে টার্গেট। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সাংবাদিক কম হলেও বিশ্বাস বেশি। আর আমাদের দেশে সাংবাদিক বেশি, কিন্তু বিশ্বাসের জায়গাটি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সময় এসেছে সিদ্ধান্তের আজ সময় এসেছে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা ন্যূনতম যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কারণ, সবাই সাংবাদিক হলে, সত্যের আর পাহারাদার থাকে না। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এটি শুধু খবর সংগ্রহ বা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি সত্য ও ন্যায়ের জন্য এক ধরনের লড়াই। গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকরা হচ্ছেন “চতুর্থ স্তম্ভ”, যাদের দায়িত্ব হলো ক্ষমতার কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, জনগণের কথা তুলে ধরা এবং দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। কিন্তু এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা প্রায়ই নানা হুমকি, হামলা, হয়রানি ও প্রাণনাশের ঝুঁকির মুখে পড়েন। বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও জটিল। রাজনৈতিক প্রভাব, অপরাধচক্রের চাপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার, এমনকি নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের অবহেলাও সাংবাদিকদের সুরক্ষা হুমকির মুখে ফেলে। ফলে এখনই প্রয়োজন সাংবাদিক সুরক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের। সাংবাদিকদের সুরক্ষা কেন জরুরি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য – সাংবাদিকরা যদি ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করতে না পারেন, তবে দুর্নীতি ও অন্যায়ের খবর প্রকাশ অসম্ভব হয়ে যাবে।জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে – জনগণ যেন সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য পায়, তার জন্য সাংবাদিকদের নিরাপদ থাকা আবশ্যক। সত্য বলার সাহস বজায় রাখতে – ভয়, হুমকি বা হয়রানির কারণে সত্য প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেলে সমাজ অন্ধকারে ঢেকে যাবে।আন্তর্জাতিক সুনাম বজায় রাখতে একটি দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে তার ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করে। সাংবাদিকদের প্রধান ঝুঁকি ও হুমকি ১. রাজনৈতিক প্রতিশোধ প্রতিটি সরকারেই কিছু রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। তাদের দুর্নীতি বা অপকর্ম প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার বা সরাসরি হামলা চালানো হয়। ২. অপরাধচক্র ও অর্থনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠী মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন, ভূমিদস্যুতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা জীবননাশের হুমকি দেয়। ৩. প্রশাসনিক হয়রানি তথ্য না দেওয়া, সংবাদ সংগ্রহে বাধা, লাইসেন্স বা অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল, অথবা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার এসব প্রশাসনিক হয়রানি সাংবাদিকদের কাজের গতি কমিয়ে দেয়। ৪. ডিজিটাল হুমকি ও সাইবার আক্রমণ অনলাইন সাংবাদিকরা ট্রল, হ্যাকিং, ব্যক্তিগত ছবি/তথ্য ফাঁসের মতো ঝুঁকির শিকার হন। এতে তাদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ৫. প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা অনেক সংবাদমাধ্যমই তাদের প্রতিবেদকদের জন্য কোনো বীমা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বা আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে না। ৬. অভ্যন্তরীণ বিভক্তি সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন ও দলাদলি থাকায় কেউ বিপদে পড়লে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়ানো হয় না। সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য করণীয় ক. আইন ও নীতিমালা পর্যায়ে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন: যাতে সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত থাকে। তথ্য গোপনীয়তা রক্ষা: সাংবাদিকদের সূত্র প্রকাশে বাধ্য না করা। অপব্যবহার রোধ: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব আইনে এমন ধারা যুক্ত করা যা সাংবাদিক হয়রানি প্রতিরোধ করবে। খ. নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি হেল্পলাইন: বিপদে পড়া সাংবাদিকদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন। দ্রুত পুলিশ রেসপন্স টিম: হামলা বা হুমকির ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সুরক্ষা: রাজনৈতিক সমাবেশ, সংঘর্ষ এলাকা বা অপরাধপ্রবণ অঞ্চলে কভারেজের সময় নিরাপত্তা সহায়তা। গ. প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ: মাঠে রিপোর্টিংয়ের সময় কীভাবে ঝুঁকি এড়ানো যায়। সাইবার সিকিউরিটি ট্রেনিং: হ্যাকিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ। আইনি সচেতনতা: গ্রেপ্তার বা মামলার সময় নিজের অধিকার জানা। ঘ. প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব বীমা স্কিম: পেশাগত ঝুঁকি কভার করার জন্য স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা। আইনি সহায়তা ফান্ড: মামলা হলে আইনজীবীর খরচ বহন। মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা: ট্রমা কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা। ঙ. সাংবাদিক সমাজের ঐক্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সংগঠন: যাতে সব সাংবাদিক সমান সহায়তা পান। একতাবদ্ধ প্রতিবাদ: কোনো সাংবাদিক আক্রান্ত হলে সবার পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া। সাংবাদিকদের সুরক্ষা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, এটি গোটা জাতির জন্য অপরিহার্য। কারণ, একজন সাংবাদিক নিরাপদ না থাকলে জনগণের চোখ ও কানও অন্ধ হয়ে যায়। তাই রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যম মালিক ও সাংবাদিক সমাজ—সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। এটি শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। পৃথিবীর অনেক দেশেই সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও বীমা (Insurance) ব্যবস্থা আইনগতভাবে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিদ্যমান। তবে প্রতিটি দেশের কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি আলাদা। আমি অঞ্চলভিত্তিকভাবে বলছি ১. ইউরোপ ইউরোপের অনেক দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা একটি আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক – সাংবাদিকদের জন্য জীবন ও স্বাস্থ্যবীমা বাধ্যতামূলক; সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে আইনি সহায়তা ও জরুরি ফান্ড থাকে।জার্মানি – সংবাদপত্র মালিকরা প্রতিবেদকদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা ও পেনশন স্কিম চালু রাখে; আক্রমণ বা হত্যার শিকার হলে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ। ফ্রান্স সাংবাদিক সুরক্ষায় আলাদা আইন রয়েছে; কাজের সময় দুর্ঘটনা বা হামলার শিকার হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেয়, পাশাপাশি সরকারি তহবিল থেকে আইনি সহায়তা।যুক্তরাজ্য “NUJ (National Union of Journalists)” সদস্যদের জন্য বীমা, আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও সংকট তহবিল। ২. উত্তর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র বড় সংবাদমাধ্যম (যেমন CNN, NY Times) তাদের সাংবাদিকদের জন্য সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবীমা, জীবনবীমা ও দুর্ঘটনা বীমা দেয়; যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আগে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। কানাডা – সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংবাদমাধ্যম মালিক যৌথভাবে স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা চালায়; বিপদে পড়লে “Canadian Journalists for Free Expression” থেকে সহায়তা মেলে। ৩. ল্যাটিন আমেরিকা মেক্সিকো – সাংবাদিক হত্যার উচ্চহারের কারণে “Federal Mechanism for the Protection of Journalists” চালু আছে, যেখানে পুলিশি সুরক্ষা, বাসা পরিবর্তন, ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়। কলম্বিয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের জন্য বীমা, সুরক্ষাকর্মী ও জরুরি অর্থ সহায়তা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পাওয়া যায়। ৪. এশিয়া জাপান – সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবাদিকদের জন্য সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমা দেয়; বিদেশে কভারেজের সময় অতিরিক্ত বীমা নেওয়া হয়।দক্ষিণ কোরিয়া – সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে বীমা, প্রশিক্ষণ ও জরুরি আইনি সহায়তা; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সরকারি নিরাপত্তা টিম সহায়তা দেয়। ভারত – সরকারি পর্যায়ে আলাদা সাংবাদিক বীমা স্কিম নেই, তবে কিছু রাজ্যে (যেমন রাজস্থান, মহারাষ্ট্র) সিনিয়র সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা ও দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ চালু আছে। বড় সংবাদমাধ্যম নিজেরাই বীমা দেয়। ৫. আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা “South African National Editors’ Forum” এর মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা প্রশিক্ষণ; কিছু বড় মিডিয়া হাউজ বীমা দেয়। কেনিয়া – সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে দুর্ঘটনা বীমা ও আক্রমণের শিকার হলে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। ৬. আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও যেসব দেশে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তা দেয় CPJ (Committee to Protect Journalists) হামলা বা গ্রেপ্তারের শিকার সাংবাদিককে আইনি সহায়তা ও জরুরি অর্থ সহায়তা। Reporters Without Borders (RSF) – বিপদে থাকা সাংবাদিকদের উদ্ধার, বাসস্থান পরিবর্তন ও বীমা সহায়তা।International Federation of Journalists (IFJ) – সদস্য দেশগুলোর সাংবাদিকদের জন্য বীমা প্রোগ্রাম, বিশেষ করে যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে। আমার মনে হয় আপনি চাইলে আমি একটি “বিশ্বের সাংবাদিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক চার্ট” বানিয়ে দিতে পারি যেখানে দেশের নাম, আইন, বীমা, ক্ষতিপূরণের ধরন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা আলাদা করে থাকবে।
এতে বোঝা যাবে কোন দেশে কতটা শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও বীমা (Insurance) ব্যবস্থা আইনগতভাবে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিদ্যমান। তবে প্রতিটি দেশের কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি আলাদা আমি অঞ্চলভিত্তিকভাবে বলছি ১. ইউরোপ ইউরোপের অনেক দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা একটি আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক – সাংবাদিকদের জন্য জীবন ও স্বাস্থ্যবীমা বাধ্যতামূলক; সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে আইনি সহায়তা ও জরুরি ফান্ড থাকে। জার্মানি – সংবাদপত্র মালিকরা প্রতিবেদকদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা ও পেনশন স্কিম চালু রাখে; আক্রমণ বা হত্যার শিকার হলে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ। ফ্রান্স – সাংবাদিক সুরক্ষায় আলাদা আইন রয়েছে; কাজের সময় দুর্ঘটনা বা হামলার শিকার হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেয়, পাশাপাশি সরকারি তহবিল থেকে আইনি সহায়তা। যুক্তরাজ্য – “NUJ (National Union of Journalists)” সদস্যদের জন্য বীমা, আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও সংকট তহবিল। ২. উত্তর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র – বড় সংবাদমাধ্যম (যেমন CNN, NY Times) তাদের সাংবাদিকদের জন্য সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবীমা, জীবনবীমা ও দুর্ঘটনা বীমা দেয়; যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আগে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।কানাডা – সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংবাদমাধ্যম মালিক যৌথভাবে স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা চালায়; বিপদে পড়লে “Canadian Journalists for Free Expression” থেকে সহায়তা মেলে। ৩. ল্যাটিন আমেরিকা মেক্সিকো সাংবাদিক হত্যার উচ্চহারের কারণে “Federal Mechanism for the Protection of Journalists” চালু আছে, যেখানে পুলিশি সুরক্ষা, বাসা পরিবর্তন, ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়। কলম্বিয়া – সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের জন্য বীমা, সুরক্ষাকর্মী ও জরুরি অর্থ সহায়তা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পাওয়া যায়। ৪. এশিয়া জাপান সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবাদিকদের জন্য সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমা দেয়; বিদেশে কভারেজের সময় অতিরিক্ত বীমা নেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়া – সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে বীমা, প্রশিক্ষণ ও জরুরি আইনি সহায়তা; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সরকারি নিরাপত্তা টিম সহায়তা দেয়। ভারত – সরকারি পর্যায়ে আলাদা সাংবাদিক বীমা স্কিম নেই, তবে কিছু রাজ্যে (যেমন রাজস্থান, মহারাষ্ট্র) সিনিয়র সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা ও দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ চালু আছে। বড় সংবাদমাধ্যম নিজেরাই বীমা দেয়। ৫. আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা “South African National Editors’ Forum” এর মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা প্রশিক্ষণ; কিছু বড় মিডিয়া হাউজ বীমা দেয়। কেনিয়া – সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে দুর্ঘটনা বীমা ও আক্রমণের শিকার হলে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। ৬. আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও যেসব দেশে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তা দেয় CPJ (Committee to Protect Journalists) হামলা বা গ্রেপ্তারের শিকার সাংবাদিককে আইনি সহায়তা ও জরুরি অর্থ সহায়তা। Reporters Without Borders (RSF) – বিপদে থাকা সাংবাদিকদের উদ্ধার, বাসস্থান পরিবর্তন ও বীমা সহায়তা।International Federation of Journalists (IFJ) সদস্য দেশগুলোর সাংবাদিকদের জন্য বীমা প্রোগ্রাম, বিশেষ করে যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে।
আমার মনে হয় আপনি চাইলে আমি একটি “বিশ্বের সাংবাদিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক চার্ট” বানিয়ে দিতে পারি যেখ