রাষ্ট্রের কাছে শেষ আশ্রয় চাই, দয়া নয়—ন্যায় চাই ভূমিহীন অসহায় নারীদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর খোলা চিঠি

By admin
3 Min Read

মাননীয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
শ্রদ্ধাভরে নিবেদন—
এই চিঠি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগের দলিল নয়।
এটি রাষ্ট্রের কাছে কিছু ভূমিহীন নারীর শেষ আর্তি,
যারা নদীতে ঘর হারিয়েছে, জীবনে বারবার হেরেছে,
কিন্তু আজও বিশ্বাস করে—
এই রাষ্ট্র একদিন তাদের কথাও শুনবে।
মাননীয় মহোদয়,
আপনি দারিদ্র্যবিরোধী সংগ্রামের বিশ্বব্যাপী প্রতীক।
আপনার চিন্তায় “প্রান্তিক মানুষ” কখনো পরিসংখ্যান নয়—
তারা মানুষ, রক্ত-মাংসের বাস্তব জীবন।
সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা এই খোলা চিঠি লিখছি।
নদী কেড়ে নিয়েছে ভিটে, এখন কি আইনও কেড়ে নেবে আশ্রয়?
চট্টগ্রামের রাউজানে কয়েকজন ভূমিহীন নারী—
বেগম মিনুয়ারা বেগমসহ তাঁর সঙ্গীরা—
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন
রাষ্ট্রের ভিপি তালিকাভুক্ত খালি জমিতে।
এই আশ্রয় কোনো দখলদারি ছিল না,
ছিল বাঁচার প্রয়াস।
বছরের পর বছর ধরে তারা সেখানে ঘর তুলেছেন,
গাছ লাগিয়েছেন, সন্তান বড় করেছেন।
এই দখল গোপন ছিল না—
প্রশাসন জানে, এলাকাবাসী জানে।
রাষ্ট্রের কর্মকর্তারাই যেটিকে ন্যায্য বলেছিলেন
সরেজমিন তদন্তে
সার্ভেয়ার, কানুনগো এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), রাউজান—
সবাই একমত হয়েছিলেন যে—
৩.৫০ একর কথিত ইজারাকৃত জমির মধ্যে
১.৬৫ একর ভূমি প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন নারীদের দখলে।
এই বাস্তবতা মেনেই
২০২১ সালের ৪ মার্চ
মাননীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি)
আইন ও মানবিকতার ভিত্তিতে
ওই ১.৬৫ একর ভূমি নারীদের পক্ষে ইজারা দেওয়ার আদেশ দেন।
সে আদেশ ছিল রাষ্ট্রের মুখে উচ্চারিত একটি আশ্বাস।
কিন্তু পরে কী হলো?
২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি
একটি আপীল আদেশে
কারণ ও বিশ্লেষণ ছাড়াই
সে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
যেখানে—
• দখল প্রতিবেদন উপেক্ষিত,
• প্রতিপক্ষের চুক্তি ভঙ্গ উপেক্ষিত,
• ভূমিহীন নারীদের জীবন বাস্তবতা অদৃশ্য।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
এই আদেশ বহাল থাকলে
এই নারীরা শুধু জমি হারাবে না—
তারা হারাবে রাষ্ট্রের ওপর শেষ বিশ্বাসটুকু।
এই নারীরা কি আইন ভেঙেছে?
না।
বরং যাদের নামে ইজারা ছিল—
• তারা কৃষিজমিতে কংক্রিট তুলেছে,
• শত শত গাছ কেটেছে,
• নবায়ন ফি দেয়নি,
• নিজেরাই স্বীকার করেছে নারীরা জমিতে দখলে আছেন।
তবু প্রশ্ন উঠছে নারীদের দখল নিয়ে।
আমরা কি এই রাষ্ট্রে অদৃশ্য?
মাননীয় মহোদয়,
ভূমিহীন নারীরা কি কেবল ভোটের সময় দৃশ্যমান,
আর ন্যায়বিচারের সময় অদৃশ্য?
ভিপি জমি যদি ভূমিহীনদের না হয়,
তবে তা কার?
আপনার কাছেই শেষ আশ্বাস
আপনি এমন একজন মানুষ
যিনি পৃথিবীকে দেখিয়েছেন—
দরিদ্র মানুষ করুণার নয়, অধিকার চায়।
সেই বিশ্বাস থেকেই অনুরোধ— এই মামলার দিকে দৃষ্টি দিন।
কাগজ নয়, মানুষের জীবন দেখুন।
ন্যায়বিচার দিন,
যাতে রাষ্ট্র বলতে পারে—
এই দেশ শুধু শক্তিশালীদের নয়,
এই দেশ দুর্বলদেরও।
শেষ কথা
আমরা দয়া চাই না।
আমরা চাই সেই ন্যায়—
যা রাষ্ট্র নিজেই একদিন আমাদের দিয়েছিল।
আজ শুধু সেটুকু ফিরিয়ে দিন।
বিনীতভাবে,
ভূমিহীন অসহায় নারীদের পক্ষ থেকে
চট্টগ্রাম- চট্রল চিত্র পত্রিকা।
ডিসেম্বর ২০২৫

Share This Article
Leave a Comment