
-ডেস্কঃ কালুরঘাট–কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা কাপাঁলো রাতভর পুলিশি তৎপরতা চট্টগ্রাম শহরের বালুর সাইডগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন এবং বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিএমপি। পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সরাসরি নির্দেশে চলমান এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওসি আফতাব উদ্দিন। তার নেতৃত্বে গতরাতে কর্ণফুলী ব্রিজ–কালুরঘাট–বলিরহাট–শাহ আমানত সেতু এলাকা ঘিরে পরিচালিত হয় টানা দুই ঘণ্টার ‘রাতভর অভিযান’, যাতে আটক হয় চারটি বালুবাহী ট্রাক এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় একাধিক বালুর সেলস সেন্টার।

বালুর সাইডে সন্ত্রাসীদের অর্থায়নের অভিযোগ: তদন্তে নয়া তথ্য গত কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়—বিশেষ করে কালুরঘাট, বলিরহাট, শাহ আমানত সেতু ঘাট, বন্দর সংলগ্ন স্থাপনাসংলগ্ন সাইডগুলোতে—বালু ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছিল এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছিল, এসব সাইড থেকে রাতের অন্ধকারে শত শত চাঁদা আদায় করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এই ধারাবাহিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চট্রল চিত্র, সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ, দৈনিক ভোরের আওয়াজ, দৈনিক আমাদের বাংলা, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম, দি টুরিস্টসহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে উঠে আসে বালুর সাইডে নগদ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের শক্তিশালী হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সদর দফতর এবং সিএমপির নজরে খবরগুলো পৌঁছে গেলে কমিশনার হাসিব আজিজ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিন মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একের পর এক অভিযান শুরু করেন।
রাতে পুলিশকে ধোঁকা দিয়ে চালু বালুর সাইড দিনে পুলিশের অভিযান দেখে অনেক বালুর সাইড বন্ধ থাকলেও রাত গভীর হলে গোপনে ব্যবসা চালিয়ে যেত একটি চক্র। রাত ১১টার পর লাইট কমিয়ে ট্রাক লোড–আনলোড করা, পাহারাদারদের সিগনাল দিয়ে গোপনে ব্যবসা পরিচালনা—এসব পদ্ধতিতেই দাপট দেখাচ্ছিল সিন্ডিকেটটি।
তবে সম্প্রতি প্রচারিত একাধিক অনুসন্ধানী নিউজে এসব কার্যক্রম স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলে কমিশনার হাসিব আজিজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং অবিলম্বে সব বালুর সাইড বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
গতরাতের অভিযান: কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় পুলিশের অভূতপূর্ব তৎপরতা গতরাতে রাত ১২টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা অভিযান চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশ। ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে থাকা পুলিশের টিম হঠাৎ করেই কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা ঘিরে ফেলে।

অভিযানে—কর্ণফুলী ব্রিজের দুই প্রান্তে বালুর সাইডে হানা,চারটি বালুবাহী ট্রাক আটক একাধিক অননুমোদিত সেলস সেন্টার বন্ধ,রাতের অপারেশন চালানো চক্রের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ,এলাকায় মোবাইল টহল জোরদার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছু সাইড পুলিশকে ফাঁকি দিতে ট্রাকে ত্রিপল ঢেকে বালুর চালান পাঠাচ্ছিল। আবার লোডিং–আনলোডিং এলাকাগুলোতে আলোকসজ্জা কমিয়ে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড অপারেশন’ চালানো হচ্ছিল।
ওসি আফতাব উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “কমিশনার স্যারের কঠোর নির্দেশেই আমরা গতরাতের অভিযান পরিচালনা করেছি। বালু সিন্ডিকেট ভাঙতে এই অভিযান চলমান থাকবে। বিশেষ করে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যদি কোনো সংশ্লিষ্টতা পাই, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাংবাদিকদের অকুতোভয় উপস্থিতি অভিযান চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের একঝাঁক তরুণ–দৃঢ়চেতা সাংবাদিক, চট্রল চিত্রের স্টাফ রিপোর্টারসহ বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধিরা। অভিযানের প্রতিটি মুহূর্ত—ট্রাক আটক, সাইড বন্ধ, পুলিশের নির্দেশনা—সবকিছুর ভিডিও ও ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তাদের সাহসী উপস্থিতি শুধু তথ্য সংগ্রহই করেনি, বরং জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সিন্ডিকেট ভাঙার পথে নতুন অধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বালু ব্যবসার আড়ালে যেভাবে অপরাধচক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, তা শহরের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সিএমপি কমিশনারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ, ওসি আফতাব উদ্দিনের দৃঢ় নেতৃত্ব এবং সাংবাদিকদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে অবশেষে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা— এই অভিযান সাময়িক না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করবে, যাতে সন্ত্রাসীদের অর্থের উৎস চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। জনমনে স্বস্তি, তবে সতর্কতা প্রয়োজন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই স্বস্তির বার্তা পাচ্ছে। যেখানে আগে রাত–বিরাতে সন্দেহজনক ট্রাক চলাচল দেখলে মানুষ ভয়ে রাস্তা ফাঁকা করে দিত, এখন সেখানে পুলিশি টহল ও অভিযান নতুন আস্থার জন্ম দিয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে—বালু সিন্ডিকেট শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক শক্তি, যার পেছনে আছে নানা ধরণের স্বার্থ ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী। তাই পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চট্টগ্রামের বালুবানিজ্যে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে গতরাতের অভিযান নিঃসন্দেহে একটি বড় বার্তা— অপরাধ যতই শক্তিশালী হোক, আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়া যাবে না। সিএমপির কঠোর অবস্থান, বাকলিয়া থানার তৎপরতা এবং সাংবাদিকদের নিরলস নজরদারি মিলেই এই শহরকে আরও নিরাপদ করে তুলছে। আগামী দিনে এই অভিযান আরও শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশাই করছে চট্টলবাসী।