তালা ঝুলছে চট্টগ্রামের মোবাইল মার্কেটে

0
209

চট্টগ্রামের মোবাইল মার্কেটগুলো রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকেই পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুন্ডি লেইন, জুবিলি রোড—শহরের প্রায় সব মোবাইল মার্কেট তালাবদ্ধ। সাধারণ দিনের ব্যস্ততা নেই কোথাও; দোকান মালিক ও কর্মচারীরা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে শুধু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এ অচলাবস্থার মূল কারণ—ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর সিদ্ধান্ত। ঢাকায় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) মানববন্ধন করলেও চট্টগ্রামে সরাসরি কোনো কর্মসূচি হয়নি। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সমর্থন জানিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকান বন্ধ রেখেছেন। রিয়াজুদ্দিন বাজার ও তামাকুন্ডি লেইনে সকাল থেকে একটি দোকানও খোলা দেখা যায়নি। সাধারণত মানুষের ভিড়ে সরগরম এসব মার্কেট আজ নিস্তব্ধ। ক্রেতারা এসে বন্ধ দোকান দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। রিয়াজুদ্দিন বাজারের একটি মোবাইল দোকানের কর্মচারী আশিক বলেন, এনইআইআর চালু হলে চট্টগ্রামে অন্তত ১০ হাজার তরুণের চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে। পরিবারগুলো সম্পূর্ণ আমাদের আয়ে চলে। এই নীতিতে আমরা রাস্তায় বসে যাব। তামাকুন্ডি লেইন মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “দেশে বড় নয়টি সিন্ডিকেট মোবাইল বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কেজি হিসেবে পার্টস এনে অফিসিয়াল ফোন বানিয়ে বিক্রি করছে। ছোট ব্যবসায়ীরা টিকতেই পারছে না। বর্তমান এনইআইআর নীতি সেই সিন্ডিকেটকেই শক্ত করছে। আমরা সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি।”রিয়াজুদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী নবী বলেন, ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন—সবই বাড়ছে। বিক্রি প্রায় বন্ধ। এই নীতি চালু হলে দেউলিয়া হয়ে যাব।” ঘোষণার পর গ্রাহকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে—বর্তমান ফোন চালু থাকবে কি না, নতুন নিয়ম তাদের জন্য ঝামেলা তৈরি করবে কি না—এসব প্রশ্ন ঘুরছে সবার মনে। অন্যদিকে বড় ব্র্যান্ডগুলো কিছুটা আশাবাদী। কাজির দেউড়ির স্যামসাং শোরুমের ম্যানেজার রহিম উদ্দিন বলেন, গ্রাহক এখন অফিসিয়াল ফোনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এতে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।”এমবিসিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস বলেন, আমরাও এনইআইআর চাই, কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে যায়। নীতিতে আমাদের মতামত রাখা হয়নি, বিটিআরসিও কোনো জবাব দেয়নি।” বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন ডিভাইস কোনো নেটওয়ার্কে কাজ করবে না—কল, মেসেজ বা ইন্টারনেট কিছুই ব্যবহার করা যাবে না। রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ ও চোরাচালান কমাতেই এই উদ্যোগ। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য আরও বাড়বে। চট্টগ্রামের বড় মোবাইল মার্কেট বন্ধ থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এনইআইআর বাস্তবায়নের কাঠামো আসলে কতটা ব্যবসায়বান্ধব? ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন—দাবি না মানলে সামনে আরও কঠোর আন্দোলন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here