
-নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের দীর্ঘদিনের এক আলোচিত নাম—মহিউদ্দিন বকুল।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত শিকল বাহার মহিউদ্দিন বকুল। বালু ব্যবসার আড়ালে যে বিস্তৃত দুনীতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর নেটওয়ার্ক বহুদিন ধরে চট্টগ্রামে দাপট দেখিয়ে আসছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন এই ব্যক্তি। পন সূত্র বলছে—বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুই বিতর্কিত শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী মন্ত্রী জাভেদ এবং সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের “আস্তাবাজন” হিসেবেই পরিচিত ছিলেন মহিউদ্দিন বকুল। এই রাজনৈতিক ছায়ার আড়ালে তিনি বেপরোয়াভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন করে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। অবৈধ বালু ব্যবসা, নদী দখল, পরিবেশ ধ্বংস—সবকিছুর সাথেই তার নাম উঠে এসেছে বারবার।আত্মগোপনে থেকেও সক্রিয় বকুল- বর্তমানে কৌশলগতভাবে “গায়েব” হয়ে গেলেও মহিউদ্দিন বকুল নাকি এখনো আওয়ামী লীগের গোপন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত ঘটনার একাধিক মামলায় তার নাম রয়েছে, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—তারপরও তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ান। স্থানীয়দের অভিযোগ—বকুল দীর্ঘদিন ধরে থানা প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে আঁতাত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে চলাফেরা করছেন। প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে গ্রেফতারের নির্দেশ- সাম্প্রতিক সময়ে মহিউদ্দিন বকুলের বিরুদ্ধে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রামের প্রশাসন। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়—তার অবস্থান, তার নেটওয়ার্ক, এবং অবৈধ অর্থ প্রবাহ নিয়ে এখন কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত সরব। বাকলিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ আফতাব উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন—“মহিউদ্দিন বকুলসহ তাদের পুরো গ্রুপকে গ্রেফতারের জন্য তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।” ওসি যোগ দেন বন্দর থানার দায়িত্ব পালনের পর। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি সরাসরি হাত দেন চট্টগ্রামের বালু মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অভিযান- চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ এর কঠোর নির্দেশে—অবৈধ বালু উত্তোলন, সন্ত্রাসী চক্রের বালুর ঘাট,রাজনৈতিক ক্যাডারদের বালুর আড্ডাখানা সবই গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু হয়েছে।
এই অভিযানের প্রথম দিনেই বিএনপির বিতর্কিত নেতা আসলাম চৌধুরীর বালুর সাইটে অভিযান চালিয়ে ৭টি বালুভর্তি ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মহিউদ্দিন বকুলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বালু সিন্ডিকেট- গোপনীয় সূত্র আরও জানিয়েছে—এই বালুর সাইটগুলোকে কেন্দ্র করে একটি ভয়ংকর মাফিয়া গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মারামারি, অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন মহিউদ্দিন বকুলই। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ক্যাডারদেরও বালু ব্যবসার টাকা দিয়ে অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা দেওয়া হতো বলে ওসি আফতাব উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। চট্টগ্রামের জনজীবনে বকুলের ত্রাস-চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া, কর্ণফুলী, বন্দর এলাকাজুড়ে বকুলের একচ্ছত্র আধিপত্য অতীতেও বহুবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নদীর পাড় দখল, সড়কের পাশ থেকে বালু লোড-আনলোড, ট্রাকের দাপটে জনদুর্ভোগ—সবকিছুর মূলে ছিল বকুল চক্রের অবৈধ রমরমা ব্যবসা। এখন প্রশ্ন—বহু অভিযোগ ও মামলার আসামি মহিউদ্দিন বকুলকে এবার কি সত্যিই ধরবে প্রশাসন? নাকি আগের মতোই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আবারও পার পেয়ে যাবেন? চট্টগ্রামের মানুষ অপেক্ষা করছে— এই শহর কি অবশেষে মুক্তি পাবে বালু সন্ত্রাসের গডফাদার শিকল বাহার মহিউদ্দিন বকুলের হাত থেকে?