সিআরবির সবুজ পথে হাঁটা, স্টেডিয়ামের ধুলোবালিতে স্বপ্ন বোনা শিশু খেলোয়াড়রা — দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

By admin
3 Min Read

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের সিআরবির সকাল মানেই প্রকৃতির মায়ায় মোড়া এক শান্ত পরিবেশ। আজ বুধবার সকালেও সেই দৃশ্যের ব্যতিক্রম হয়নি। তবে আজকের সকালটা কিছুটা ভিন্ন অনুভূতির। সময়ের অভাবে নিয়মিত শরীরচর্চা করা না গেলেও, মন ভরে গেল মানুষের মমতায়, বন্ধুত্বে আর কিছু বাস্তবচিত্রের বেদনায়। সকালে একটু দেরিতে সিআরবিতে পৌঁছানোয় সাউন্ড হেলথের তত্ত্বাবধায়ক মিজান ভাইয়ের অধীনে ব্যায়াম করা হয়নি। এতে মনটা কিছুটা ভারী লাগছিল। কিন্তু, হাঁটার শুরুতেই একে একে পরিচিত মুখদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে সকালটা প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। ঠিক তখনই দেখা হলো ইঞ্জিনিয়ার আতিকের সঙ্গে—যিনি আজকের হাঁটার সঙ্গী হয়ে গেলেন। তাঁর মোবাইলে বাজছিল সুমধুর গজল, সেই সুরে মনটা এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে গেল। হাঁটতে হাঁটতে কথা হলো নানা বিষয়ে—জীবন, শহর, স্বাস্থ্য, বন্ধুত্ব। এরপর আমরা চলে এলাম চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের দিকে। সেখানে আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু পান্তু বড়ুয়া ইতিমধ্যে অপেক্ষায় ছিলেন। সেও আজ কিছুটা দেরিতে এসেছে, তাই হাঁটার পাশাপাশি চলল প্রাণখোলা আড্ডা। দুজনে প্রায় চল্লিশ মিনিট হাঁটাহাঁটির পর সিদ্ধান্ত নিলাম কাছের এক রেস্টুরেন্টে গিয়ে নাস্তা করব। রোদেলা বিকেলের আলোয় ভেসে থাকা সেই রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তার টেবিলে গড়ে উঠল বন্ধুত্বের হাসি, জীবনের গল্প, আর কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। নাস্তা শেষে আমরা আবার ফিরলাম স্টেডিয়ামে। সেখানে দেখলাম ছোট ছোট ছেলেরা মাঠে অনুশীলনে ব্যস্ত। কারো হাতে বল, কেউ আবার লাফ দিচ্ছে, দৌড়াচ্ছে—ঘামে ভেজা মুখেও ফুটে আছে আনন্দের হাসি আর স্বপ্নের দীপ্তি। তাদের মধ্যে বোয়ালখালীর ইলিয়াস ভাইয়ের ছেলে ইমনও ছিল। পান্তু বড়ুয়া তাকে ডেকে পাশে টেনে নিলেন, স্নেহভরে উৎসাহ দিলেন, এমনকি প্রয়োজনে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিলেন। এই দৃশ্যটা যেন এক টুকরো মানবিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে মনে গেঁথে গেল। তবে, মাঠের অবস্থা দেখে মনটা কেঁদে উঠল। যেই মাঠে এই শিশু-কিশোররা প্রতিদিন ঘাম ঝরায়, সেই মাঠে এখন ধুলোবালির রাজত্ব। প্রতিবার তারা দৌড়ালে বাতাসে উড়ে যায় ধুলার মেঘ। খেলোয়াড়দের মুখ, চোখ, এমনকি নাক-মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ছে সেই ধুলো। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিন অনুশীলন করা মানেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়া। হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের আশঙ্কা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এই করুণ বাস্তবতা চোখে পড়তেই আমি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলাম—যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এই অবস্থা। ভিডিওর মাধ্যমে আমি আহ্বান জানালাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে—তারা যেন দ্রুত এই মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেন। কারণ, এই শিশুরা শুধু খেলছে না, তারা আগামী দিনের তারকা হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ধুলোবালির ভেতরেই। স্থানীয়রা জানান, “এই মাঠেই প্রতিদিন সকাল-বিকেল শতাধিক শিশু অনুশীলন করে। অথচ বছরের পর বছর ধরে মাঠের অবস্থা একই রকম। কেউ খোঁজ নেয় না। আমরা চাই এই মাঠটা যেন সংস্কার করা হয়, যাতে তারা নিরাপদ পরিবেশে অনুশীলন করতে পারে।” আজকের সিআরবির হাঁটা, ইঞ্জিনিয়ার আতিকের গজল, পান্তু বড়ুয়ার স্নেহমাখা মানবিকতা আর স্টেডিয়ামের শিশু খেলোয়াড়দের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে দিনটি যেন এক জীবন্ত গল্প। যেখানে একদিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বন্ধুত্বের উষ্ণতা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের অবহেলার বেদনাময় চিত্র।
আমি এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের মাঠ যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়, ধুলোবালি মুক্ত পরিবেশে যেন এই শিশুদের স্বপ্ন লালিত হতে পারে।

Share This Article
Leave a Comment