
চট্টগ্রাম থেকে প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের আলোচিত সরওয়ার বাবলা হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। বায়েজিদ থানার পুলিশ পৃথক পৃথকভাবে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বেলাল উদ্দিন মুন্না, সোহেল ও বাবুল। তবে মুন্নার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এলাকায় গভীর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মুন্নার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “যার সঙ্গে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি, সেই মানুষকে কেন হত্যার মামলায় যুক্ত করা হলো? এটি জনগণ মেনে নিতে পারছে না।” অন্য একজন স্থানীয় বলেন, “মুন্না ও সোহেল দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তারা কখনও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াননি। এর সঙ্গে সরওয়ার বাবলার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধও ছিল না। এভাবে নির্দোষকে আসামি করা প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে।” বিএনপির তীব্র প্রতিবাদ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতারা গ্রেফতারকৃত মুন্নার বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিএনপির নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, “মুন্না বহু বছর ধরে ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি সব মামলায় জামিনে আছেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে হত্যা মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।” আরেক বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন হিরু বলেন, “মুন্না আমার ছোটবেলার বন্ধু। সে বিএনপির রাজনীতি করত — এটা কি অপরাধ? আমি কোনো প্রমাণ দেখিনি যে সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এটি নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা মিথ্যা মামলা। মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।” এলাকার মানুষের দাবি স্থানীয়রা দাবি করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। তবে নির্দোষ ও সৎ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না। একজন সমাজকর্মী বলেন, “সরওয়ার ও মুন্না—দুজনই এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। এমন মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।”
স্থানীয় তরুণরাও বলছেন, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। নচেৎ এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরি হবে। ওসির বক্তব্য বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। তদন্ত এখনও চলমান। পুলিশ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে যে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার হবেন না।” ওসি আরও বলেন, “আমরা চাই, সঠিকভাবে তদন্ত সম্পন্ন হোক। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। আইনের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।” মানববন্ধন ও বিক্ষোভ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বেলাল উদ্দিন মুন্নাকে জড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। তারা দাবি করেছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষদের মুক্তি দিতে হবে এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হোক। বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, “যদি নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হয়, সমাজে বিভাজন ও ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রশাসনকে অবশ্যই ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা বেড়ে যাবে।” একজন যুবক বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। কিন্তু এ ধরনের রাজনৈতিক হীনচেষ্টার কারণে নির্দোষ মানুষকে ফাঁসানো ঠিক নয়। প্রশাসনকে উচিত নিরপেক্ষ থেকে কাজ করা।” সমাপনী মন্তব্য সরওয়ার বাবলা হত্যা মামলার এই নতুন ধাপটি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা এবং রাজনৈতিক নেতারা নিরপেক্ষ ও সুবিচারমুখী তদন্ত দাবি করছেন। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের আস্থা ও শহরের সামাজিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।