
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
আজ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চারজন ওসিকে চার থানায় আলাদা আলাদা বদলি করা হয়েছে। এই উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি সিএমপিকে তার ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার দিক দিয়ে সাজাচ্ছেন, যা সময়োপযোগী ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রমাণিত। এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ ইতিমধ্যেই চারজন ওসির বদলির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে আজ আমরা আলাদা করে গুরুত্ব দিতে চাই সেই পুলিশ অফিসারের প্রতি, যিনি পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ থেকে বায়েজিদ থানায় যোগদান করেছেন — মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। আমি জসিম উদ্দিনকে চিনি প্রায় ১৫ বছর আগে থেকে। তার চাকরির শুরু থেকেই তাকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছে। চাকরির শুরুতে তিনি চান্দগাঁও থানায় কর্মরত ছিলেন। একদিন আমি ও এম. এ. হাশেম রাজু–এর সঙ্গে তিনি তখনকার বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী-কে দেখা করতে যান। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসছে, কিন্তু somehow সেই খবর ডিজিএফআই-এর কাছে পৌঁছে যায়। আমাকে খবরটি দেওয়া হলে জসিম উদ্দিন বললেন:”আমি কোনো দোষ করিনি। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী একজন বিখ্যাত নেতা, আমি তাঁকে সম্মান দেখাতে গিয়েছিলাম। কোতোয়ালি থানার এলকায় তাঁর বাসায় যাওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হয়েছে, কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল পরিচয় এবং সম্মান প্রদর্শন। চাকরি চলে গেলেও আমি দুঃখিত নই।”
এরপর কিছু দিন পরই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রেফতার হন এবং তাঁর মুক্তি আর মেলেনি। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হন। সেই দিনই আমি তাঁর শেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, যা আজও আমার স্মৃতির অংশ। সেই প্রসঙ্গে জসিম উদ্দিনের সাহসী মনোভাব আজ একটি ইতিহাস হয়ে গেছে। যতই বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি হোক, জসিম উদ্দিন কখনো ভয় পাননি। সেই সময় ডিজিএফআই অফিসারকে আমি কিছুটা সুঝিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছিলাম, যাতে তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট না যায়। চাকরি হারানো বাকি থাকলেও সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
আজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চট্টগ্রাম পাহাড়তলী থানার ওসি থেকে বায়েজিদ থানায় বদলি হয়েছে। তিনি একজন সত, সাহসী, চৌকস ও মেধাবী পুলিশ অফিসার, যার চরিত্র ও কর্মদক্ষতা প্রশংসনীয়। এমন অফিসার দেশের পুলিশের জন্য গর্বের। আমরা তার কর্মজীবনের সফলতা ও সাফল্য কামনা করছি।