
— মো.কামাল উদ্দিনঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি—একটি রাজনৈতিক সংগঠনই নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি চেতনার নাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এই দল জন্মলগ্ন থেকেই জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে। সময়ের পরিক্রমায় অনেক নেতা এসেছেন, অনেকেই হারিয়ে গেছেন; কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাদের ত্যাগ, সততা ও অটল বিশ্বাস সংগঠনের শিকড়ে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। কর্ণফুলীর মাটি এমন এক মানুষকে ধারণ করে আছে—আব্দুল গফুর মেম্বার, যিনি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীপ্ত, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নিবেদিত, এবং তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় অনুপ্রাণিত এক সত্যিকারের জননেতা। জিয়ার আহ্বানে রাজনীতির পথে- ১৯৭৯ সাল। স্বাধীনতার পর বিভ্রান্ত, দিশেহারা দেশের রাজনীতিতে তখন একমাত্র আলোর দিশারি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে যখন জাতি নতুন করে জাতীয়তাবাদের স্বপ্নে উজ্জীবিত, তখন তরুণ আব্দুল গফুর শহীদ জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে যোগ দেন বিএনপির রাজনীতিতে। সেই সময় থেকেই তার মধ্যে গড়ে ওঠে দৃঢ় বিশ্বাস—দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র শক্তি হলো বিএনপি। তার রাজনীতি শুরু হয়েছিল মাটি ও মানুষের সান্নিধ্য থেকে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর তাগিদে। পদ-পদবির লোভ নয়, বরং দেশ, দল ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই ছিল তার মূল অনুপ্রেরণা। তৃণমূল রাজনীতির অক্লান্ত সৈনিক- রাজনীতির মূলে আছে জনগণ—এই দর্শনকে বুকে ধারণ করেই গফুর মেম্বার নিজের রাজনৈতিক জীবন গড়ে তুলেছেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এবং
চর লক্ষ্য ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালনকালে তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির সংগঠনকে সুসংহত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপি হয়ে উঠেছিল এক শক্তিশালী সংগঠন—যেখানে নেতা-কর্মীদের সম্পর্ক ছিল পারিবারিক বন্ধনের মতো দৃঢ়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে টানা তিনবার ইউপি সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান থাকা গফুর মেম্বার প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু রাজনীতিক নন, বরং একজন প্রকৃত সেবক। রাস্তা, সেতু, স্কুল, মসজিদ, বিদ্যুৎ—গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পদচিহ্ন রয়েছে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ব্যথা। দুর্দিনের নির্ভীক যোদ্ধা-রাজনীতি মানেই সংগ্রাম, আর সেই সংগ্রামে কতজন টিকে থাকতে পারে? কিন্তু আব্দুল গফুর মেম্বার তাঁদের মধ্যে একজন, যিনি বিপদের মুখে পিছু হটেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত বারটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়—কখনো কারাগারে, কখনো নির্বাসনে, কখনো হয়রানির শিকার। তবু তিনি দলত্যাগ করেননি, নেতার বিরুদ্ধে কখনো কথা বলেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন—বিএনপি কেবল একটি দল নয়, এটি একটি মিশন। সেই মিশনের সৈনিক হয়ে তিনি প্রতিকূল সময়েও সংগঠনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন। কর্ণফুলীর প্রতিটি সভা-মিছিলে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনুপ্রেরণার প্রতীক। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথের অগ্রসৈনিক-বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন অন্যায়ভাবে বন্দি ছিলেন, তখন অনেক নেতা নিশ্চুপ থেকেছেন। কিন্তু গফুর মেম্বার ছিলেন রাজপথের ফ্রন্টলাইনে। তিনি শুধু নিজে আন্দোলনে অংশ নেননি, বরং কর্ণফুলী ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করেছেন, প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছেন। তার নেতৃত্বে অগণিত কর্মী নতুন করে রাজনীতিতে ফিরে আসে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে জন্ম নেয় জিয়ার আদর্শে আস্থা ও সাহস। সেই সময়কার এক নেতা বলেছিলেন, “গফুর মেম্বার মাঠে নামলে কর্মীরা ভয় পায় না”—এই একটি বাক্যই তার রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে দেয়। তারেক রহমানের রূপরেখায় সক্রিয় ভূমিকা- তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপরেখা বিএনপিকে আধুনিক ও সংগঠিত রূপে পুনর্গঠনে র এক নতুন অধ্যায়। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে যারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে গফুর মেম্বার অন্যতম। তিনি ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক করেন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন তদারকি করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে বিএনপির আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেন। তার লক্ষ্য একটাই—জিয়ার জাতীয়তাবাদকে নতুন প্রজন্মের চেতনায় বপন করা, যাতে তারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ধারণ করে। জনপ্রিয়তায় অনন্য, গ্রহণযোগ্যতায় অতুলনীয় গফুর মেম্বারের জনপ্রিয়তা কোনো কাগুজে পদে নয়, মানুষের হৃদয়ে গড়া। তিনি যখন রাস্তায় হাঁটেন, মানুষ তাঁকে নাম ধরে ডাকে; তিনি যখন সভায় কথা বলেন, নেতাকর্মীরা শুনতে মুখিয়ে থাকে। কারণ তার কণ্ঠে আছে বিশ্বাসের শক্তি, হৃদয়ে আছে ত্যাগের আলো। তাকে কর্ণফুলীর মানুষ শুধু নেতা নয়, অভিভাবক হিসেবে দেখে। তাই আজ কর্ণফুলী থানা বিএনপির পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে তৃণমূলের একটাই দাবি—“গফুর মেম্বারকে দায়িত্ব দিন।” এই দাবি কেবল একটি ব্যক্তির জন্য নয়, এটি তৃণমূল বিএনপির সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা। ত্যাগী নেতার যথাযথ মূল্যায়নের সময় এখনই-একটি রাজনৈতিক দল তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে জানে। যারা দলীয় পতাকা বুকে ধারণ করে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন, তাদের সম্মানিত করা মানেই সংগঠনকে নতুন শক্তি দেওয়া। আব্দুল গফুর মেম্বার এমনই এক ত্যাগী সৈনিক, যিনি নিজের জীবনের সেরা সময়টি উৎসর্গ করেছেন বিএনপির জন্য। কর্ণফুলী থানা বিএনপির নেতৃত্বে তাঁকে আনা হবে সময়োপযোগী, যৌক্তিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ এক কঠিন সময় পার করছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের দমন, মামলা, হামলা—সবকিছুর মধ্যেও যারা রাজপথে লড়ছে, তারাই বিএনপির ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যেই একজন দৃঢ় বিশ্বাসী সৈনিকের নাম—আব্দুল গফুর মেম্বার।-
তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন;
তিনি এক আন্দোলনের প্রতীক, ত্যাগের প্রতিমূর্তি, জাতীয়তাবাদের জ্যোতিষ্ক।
আজ সময় এসেছে এমন মানুষদের সামনে আনার, যারা দলের জন্য জীবনভর সংগ্রাম করেছেন, আদর্শের পতাকা কখনো নামাননি। কর্ণফুলী বিএনপির নেতৃত্বে আব্দুল গফুর মেম্বারকে আনাই হবে শহীদ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আনুগত্য, এবং তারেক রহমানের রূপরেখার প্রতি অঙ্গীকারের বাস্তব রূপ।
তৃণমূলের কণ্ঠ আজ একটাই—
“আব্দুল গফুর মেম্বারই কর্ণফুলী বিএনপির নেতৃত্বের যোগ্য মুখ।”