
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম—সাগরের নোনা হাওয়া, পাহাড়ের সবুজ ছায়া আর মানুষের প্রাণখোলা হাসিতে ভরা এই শহরের বুকেই জন্ম নিয়েছেন সৈয়দ জাকির উল্লাহ। তিনি কেবল একজন সাংবাদিক নন, তিনি এক বহুমাত্রিক মানুষ। তার জীবন যেন এক রঙিন উপন্যাস, যেখানে মিশে আছে বাবার আদর্শ, পারিবারিক ঐতিহ্য, ব্যবসায়ী মনমানসিকতা, সেনাসৈনিকের অভিজ্ঞতা, সমাজসেবকের দায়িত্ববোধ আর সবচেয়ে বড় শক্তি—তার নির্ভীক লেখনী। সৈয়দ জাকির উল্লাহর বাবা মরহুম আব্দুল লতিফ ছিলেন সৎ ব্যবসায়ী, একজন দানবীর এবং মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি সততার সাথে ব্যবসা করেছেন, সুনামের সাথে পথ চলেছেন এবং সমাজের জন্য রেখে গেছেন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। লতিফ সাহেবের নাম আজও শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়—যেন এক আদর্শের প্রতীক।
চট্টগ্রাম শহরের প্রথম কমিউনিটি সেন্টার “মেট্রোপোল” প্রতিষ্ঠিত হয় তার হাত ধরেই। লাভ লেনে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের জন্য আজও আশীর্বাদস্বরূপ। খুব কম খরচেই মানুষ এখানে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পান। ব্যবসাকে সমাজসেবার হাতিয়ার বানানো—এ শিক্ষা বাবার কাছ থেকেই পেয়েছেন জাকির উল্লাহ। তিনি এখনো সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন, মানুষের পাশে থাকার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। যৌবনের সূচনালগ্নে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন জাকির উল্লাহ। শৃঙ্খলা, সাহস, কর্তব্যবোধ—এসব শিখেছিলেন সেখান থেকে। তবে ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার অন্তরে উদ্যোক্তা মানসিকতা মাথা তুলে দাঁড়ায়। সেনাবাহিনীর চাকরি স্থায়ী হয়নি, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা তার জীবনের মূলধন হয়ে আছে। একজন সৈনিকের মতো দৃঢ়তা, সময়ানুবর্তিতা আর লড়াইয়ের মানসিকতা তাকে আজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি কাজে। জীবনে মানুষ অনেক কিছু দিয়ে লড়াই করে, কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ শক্তি দিয়ে, আবার কেউ ক্ষমতার দাপটে। কিন্তু সৈয়দ জাকির উল্লাহ লড়াই করছেন কলম দিয়ে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর উচ্চারিত হয় লেখার মাধ্যমে। তার কলমে ফুটে ওঠে মানুষের জীবনকথা, সমাজের সমস্যা, অপকর্মের ইতিহাস আর ন্যায়ের দাবিতে দৃঢ় উচ্চারণ। আজ তিনি দৈনিক ভোরের আওয়াজ পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী ব্যুরো প্রধান। সত্য উদঘাটনে তার নির্ভীক মনোভাব, তথ্য সংগ্রহের দক্ষতা আর বিশ্লেষণী দৃষ্টি তাকে করেছে অনন্য। তার লেখা কেবল সংবাদ নয়, বরং ইতিহাসের দলিল হয়ে উঠছে। একদিন হয়তো তার কলম থেকেই রচিত হবে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের সংগ্রামের নতুন অধ্যায়। চট্টগ্রামের বাটালি পাহাড়ের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুব কম। সবুজে ঢাকা এই পাহাড় একসময় ছিল অবহেলিত, তবে আজ সেখানে শতায়ু অঙ্গনের শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন চলছে নিয়মিত। এ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন সৈয়দ জাকির উল্লাহ। মানুষকে সুস্থ ও সচেতন করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। আজ বাটালি পাহাড়ের সবুজবীথি, প্রাণময় দৃশ্যপট এবং পরিবেশের নতুন রূপ অনেকাংশেই তার অবদানে ফিরে এসেছে।
যত বড় মানুষই হোক, পরিবার ছাড়া তার জীবন অসম্পূর্ণ। সৈয়দ জাকির উল্লাহ একজন সুখী পরিবারপ্রেমী মানুষ। তার একটি কন্যা ও একটি পুত্র রয়েছে, যারা তার জীবনের আনন্দ, শক্তি আর প্রেরণার উৎস। তার স্ত্রী বহুমুখী প্রতিভার অধিকারিণী। তিনি শুধু সংসারের কর্ণধারই নন, বরং একজন দক্ষ রন্ধনশিল্পী। তার হাতের রান্নার জাদুতে প্রতিদিন প্রাণ ভরে খান জাকির উল্লাহ। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—এই সুস্বাদু রান্নার কারণেই একসময় নায়কের মতো দেহের অধিকারী জাকির ভাই আজ অনেকটাই ভরাট হয়ে উঠেছেন। বন্ধুরা মজা করে বলেন, “নায়ক থেকে ভিলেন বানানোর পেছনে দায়ী শুধু ভাবীর রান্না।” তবে এ ভিলেনি বাহ্যিক রূপে হলেও, অন্তরে তিনি সবসময়ই নায়কের মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষ। সাফল্যের পথে চলতে গেলে প্রতিবন্ধকতা আসবেই। জাকির উল্লাহর জীবনেও এসেছে ষড়যন্ত্রের ঝড়। এমনকি নিজের স্বজনদের মধ্যেও কেউ কেউ তাকে বাবার আদর্শ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু তিনি দমে যাননি। বড় মনের মানুষ হিসেবে প্রতিহিংসার পথে যাননি কখনো। তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন কলমের মাধ্যমে। সত্য প্রকাশের অঙ্গীকারে তিনি আজও অবিচল। সৈয়দ জাকির উল্লাহর স্বপ্ন কেবল পত্রিকার পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি চান একটি দৈনিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করতে এবং একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক হতে। তার বিশ্বাস, মিডিয়ার শক্তিই সমাজ পরিবর্তনের বড় হাতিয়ার। ভবিষ্যতে তার কলম আর ক্যামেরা মিলেই মানুষকে জানাবে দেশের সংকট, সমাজের সমস্যা এবং সমাধানের পথ। টেলিভিশনের পর্দায় থাকবে মানুষের কথা, সাধারণ মানুষের জীবনকাহিনি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যত বড় দায়িত্বই পালন করুন না কেন, জাকির উল্লাহর ভেতরে রয়েছে এক সরল হৃদয়। তিনি বন্ধুবৎসল, হাস্যরসপ্রিয়। সহজ-সরল আলাপচারিতায় মানুষ তাকে খুব দ্রুত আপন করে নেয়। কখনো কখনো তার নিজের জীবন নিয়েও তিনি মজার ছলে গল্প করেন—“নায়ক থেকে ভিলেন হওয়ার দায় কিন্তু একেবারেই আমার স্ত্রীর রান্নার!” এই সরলতা ও রসবোধই তাকে আরও কাছের মানুষ বানিয়েছে সবার কাছে। আজ তিনি শুধু একজন সংবাদকর্মী নন, বরং গণমাধ্যমের একজন ব্যক্তিত্ব। তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে। তার লেখার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠছে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সত্যের আহ্বান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তিনি কলমের সৈনিক, ন্যায়ের কণ্ঠস্বর। সৈয়দ জাকির উল্লাহর জীবন এক সংগ্রামের কাহিনি, এক অনবদ্য সাহিত্য, যেখানে বাবার আদর্শ, নিজের সাহস, মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর কলমের শক্তি মিলেমিশে তৈরি করেছে এক আলোকিত অধ্যায়। তিনি ব্যবসায়ী পরিবারের উত্তরাধিকার বহন করলেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন কলমের মাধ্যমে। চট্টগ্রামের বাটালি পাহাড়ের সবুজ হোক বা ভোরের আওয়াজের সংবাদপত্রের পাতা—সবখানেই তার উপস্থিতি আলোকিত করছে মানুষকে। ষড়যন্ত্র, প্রতিকূলতা, ব্যঙ্গ আর বাধা—সব কিছুকে পেছনে ফেলে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন ন্যায়ের পথে। আমরা বিশ্বাস করি, সৈয়দ জাকির উল্লাহর কলম থেকেই উঠে আসবে নতুন ইতিহাস। তিনি যে মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন, তা শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্যই গর্বের বিষয়। আমরা তার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সাফল্য কামনা করি— কারণ সৈয়দ জাকির উল্লাহর মতো মানুষই পারে কলমের আলোয় অন্যায়ের অন্ধকার দূর করতে