মো.কামাল উদ্দিনঃ
বই কেবল কাগজের অক্ষরের সমষ্টি নয়—এটি হলো সময়ের সেতু, প্রজন্মের বন্ধন, চিন্তার মুক্ত যাত্রা। সেই সেতুবন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি হলো আজ, যখন আমার নাতি কাশিব আমার লেখা গ্রন্থ “সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কথা” বইটি কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজ সাহেবের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিল।
এই মুহূর্তটি ছিল সত্যিই অনন্য। কারণ, একজন লেখকের লেখা বই যখন লেখকের নাতির হাত দিয়ে তার প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন সেই আনন্দ কেবল আত্মতৃপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে ভবিষ্যতের দিকে। বইয়ের পাতার মতোই প্রজন্মের হাত ধরে ইতিহাস যেন আবার নতুনভাবে লেখা হয়।
মাহফুজ সাহেব, যিনি দায়িত্বশীলতার মাপকাঠিতে অটল, আবার মানবিকতার ছোঁয়ায় অনন্য, তিনি বইটি গ্রহণ করেই বলেন—
“এই বই সাধারণ পাঠকের বই নয়; এটি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। সাংবাদিকতার পথচলায় যেমন সত্যের অনুসন্ধান, তেমনি পুলিশের দায়িত্বেও সত্যকে উদ্ঘাটন করার সংগ্রাম রয়েছে। তাই সাংবাদিক ও পুলিশের ভাবনা এক সূত্রে বাঁধা। আমি চেষ্টা করবো এই বইটি সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পড়তে।”
তার এই কথা শুধু প্রশংসা নয়, বরং জ্ঞানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।
অন্যদিকে, আমার ছোট্ট নাতি কাশিব, যে এখনো শিশুমন নিয়ে স্বপ্ন বুনছে, তার হাত দিয়ে বই উপহার দেওয়ার এই দৃশ্য আমার কাছে ভবিষ্যতের এক প্রতীক হয়ে উঠল। কে জানে, হয়তো একদিন সেও বই লিখবে, কিংবা সাংবাদিকতার কঠিন অথচ মহৎ পথে হেঁটে সমাজকে আলোকিত করবে। কাশিবের উজ্জ্বল চোখ আর নির্ভার হাসিতে আমি সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেখেছি।
এই ছোট্ট উপহার বিনিময়ের মধ্যে লুকিয়ে ছিল বড়ো এক বার্তা— বই শুধু পড়ার জন্য নয়, বই হলো মানুষ ও মানুষের সম্পর্ককে গভীর করার এক অমূল্য মাধ্যম।
আজকের এই মুহূর্তে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মাহফুজ সাহেবকে। তাঁর মতো একজন জ্ঞাননিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যখন লেখকের লেখা গ্রহণ করে তা আন্তরিকভাবে মূল্যায়ন করেন, তখন বোঝা যায়—সমাজের আলোকিত মানুষদের হাতেই আগামী দিনের স্বপ্ন সবচেয়ে নিরাপদ। একই সঙ্গে আমার নাতি কাশিবকেও অভিনন্দন জানাই, যার নিষ্পাপ হাতে ধরা বইটি আজ এক বিশেষ তাৎপর্যের প্রতীক হয়ে উঠল।
এমন একটি দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বই কখনো নিছক অক্ষরের খেলা নয়, এটি হলো মানুষের হৃদয় থেকে হৃদয়ে পৌঁছে যাওয়ার সেতুবন্ধন, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলো ছড়িয়ে দেয়।