-মো.কামাল উদ্দিনঃ
এই সময় এমন একটি লেখা নিয়ে বসা নিয়ে অনেকের কৌতূহল জাগতে পারে। কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন—কেন এখনই এই প্রসঙ্গ তুললাম? আবার কেউ কেউ মনে করতে পারেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সেদিনই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন—এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে লেখার প্রয়োজন কতটুকু? আসলে, বিষয়টি নিয়ে আমাকে অনেকেই লিখতে অনুরোধ করেছেন। তাই আজ আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও বোঝাপড়ার আলোকে কিছু কথা সাজাতে বসেছি। তবে এ লেখার উদ্দেশ্য অন্য কারো মতামতকে খণ্ডন বা অস্বীকার করা নয়; বরং ইতিহাসের আলোকে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যাত্রাপথকে নতুনভাবে অনুধাবন করা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা, তাঁর বন্দিত্বকালীন অবস্থা এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ—সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ঘটনা। এই অধ্যায় শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও রাষ্ট্রপতির পদে বঙ্গবন্ধু-১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। পাকিস্তানের একক জাতীয় পরিষদে তাঁর দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ইয়াহিয়া খান ও পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে পাকিস্তানি সেনারা “অপারেশন সার্চলাইট” নাম দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায় এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে বন্দী করে নিয়ে যায়। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তীতে মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালীন বৈধ সরকার ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। বন্দিত্বকালীন রাষ্ট্রপতি হওয়া : বৈধতার প্রশ্ন_যখন তাঁকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়, তখন তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—শপথ না নিয়ে কীভাবে তিনি রাষ্ট্রপতি হলেন? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত আছে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে। জনগণের ম্যান্ডেট: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু সর্বাধিক ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। জনগণের সেই রায়ই ছিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর বৈধতার মূল উৎস। ঘোষণাপত্রের আইনগত শক্তি: মুক্তিযুদ্ধকালীন বৈধ সরকার (Provisional Government of Bangladesh) ঘোষণা করে যে বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। আইনগতভাবে জনগণের প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অনুমোদন দেন। আন্তর্জাতিক আইন: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারকে “ডি ফ্যাক্টো” এবং “ডি জুরে” উভয়ভাবেই বৈধ হিসেবে মানা হয়। সেই সরকারের প্রধান ছিলেন শেখ মুজিব, যদিও তিনি বন্দী ছিলেন। এ কারণে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে কোন সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়নি। শপথের অনুপস্থিতি এখানে বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, কারণ মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘোষণাই ছিল চূড়ান্ত বৈধতার উৎস।সশরীরে দায়িত্বপালন করেননি- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাদেশের বৈধ রাষ্ট্রপতি। কিন্তু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকার কারণে তিনি সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কাল তাঁরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দেশে প্রত্যাবর্তন ও নতুন মোড়- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১০ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। তখন তিনি বৈধ রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার স্বার্থে তিনি রাষ্ট্রপতির পদে না থেকে কার্যনির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলেন।
১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিনে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী নতুন রাষ্ট্রপতি হন। বঙ্গবন্ধু সেদিনই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নেন। টাইমলাইন : বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হওয়া-১০ এপ্রিল ১৯৭১ – বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা (তখন পাকিস্তানে বন্দী)। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ – ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – বঙ্গবন্ধু বৈধ রাষ্ট্রপতি, তবে কার্যত দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ – বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শপথ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি ঘোষিত হয়েছিলেন, কারণ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার তাঁকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বন্দী থাকলেও বৈধ রাষ্ট্রপতি ছিলেন। দেশে ফিরে এসে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি তাঁর আস্থার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ বেছে নেন।
এই অধ্যায় প্রমাণ করে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব শুধু একটি রাজনৈতিক পদ দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্র গঠনের সুদূরপ্রসারী চিন্তার প্রতিফলন ছিল। তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন কেবল গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যাতে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হতে পারে। ঘোষণাপত্রের উদ্ধৃতি ১০ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল—
“আমরা ঘোষণা করিতেছি যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হইবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং তিনি অনুপস্থিত থাকাকালে সৈয়দ নজরুল ইসলাম কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।” এই ঘোষণাই বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বৈধতার মূল ভিত্তি। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ধারা
১৯৭২ সালের সংবিধানে স্পষ্ট করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা। সেখানে বলা হয় ধারা ১১: “প্রজাতন্ত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।”
ধারা ৫৫(১): “প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিকট ন্যস্ত থাকবে।” ধারা ৪৮(১): “রাষ্ট্রপতি হইবেন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান।” এই ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, আর প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার হাতে। এ কারণেই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতির পদে থেকে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি ঘোষিত হলেও তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকায় শপথ নিতে পারেননি। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আইনগত ও সাংবিধানিক আলোচনার অবকাশ আছে—তাঁর মুক্তির পর কি আলাদা করে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ করা উচিত ছিল? নাকি জনগণের ম্যান্ডেট ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘোষণার ভিত্তিতেই তাঁর রাষ্ট্রপতির পদ বৈধ ছিল? পরিশেষে তা আমি আবার পরিস্কার করে বলছি-
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তিনি তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। সেইদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তীতে মুজিবনগর) অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সেখানে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
শপথ গ্রহণ করেন: সৈয়দ নজরুল ইসলাম – কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতিতাজউদ্দীন আহমদ – প্রধানমন্ত্রীখন্দকার মোশতাক আহমদ – পররাষ্ট্র মন্ত্রীএ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান – স্বরাষ্ট্র, পুনর্বাসন ও ত্রাণ মন্ত্রীক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী – অর্থ মন্ত্রী এই পাঁচজনই মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের মূল মন্ত্রিসভার দায়িত্ব নেন। তাঁরা সবাই শপথ গ্রহণ করেন কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নিকট থেকে।
বঙ্গবন্ধুর জন্য আলাদা করে শপথ অনুষ্ঠান হয়নি, কারণ ঘোষণাপত্রেই তিনি রাষ্ট্রপতি ঘোষিত হয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর মুক্তি পরবর্তী শপথ প্রশ্ন ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিলে তিনি লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সে সময় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী বৈধ রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে মাত্র দুই দিন পরেই (১২ জানুয়ারি) পদত্যাগ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হন। প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তির পর তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক শপথ নেওয়া উচিত ছিল কিনা? আইনগত দিক থেকে: ঘোষণাপত্রে জনগণের প্রতিনিধিরা বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন। সুতরাং তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়া ডি জুরে বৈধতা পেয়েছিল।মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার ও মুক্তিবাহিনী তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মান্য করেছিল।শপথের অনুপস্থিতি বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, কারণ মুক্তিযুদ্ধকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘোষণাপত্রই ছিল আইন ও সংবিধানের বিকল্প। রাজনৈতিক দিক থেকে: বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারতেন, তবে তিনি গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলেন।তাঁর মুক্তির পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলাদা শপথের আয়োজন করা হলে সেটা হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণতা দিত, তবে বৈধতার ঘাটতি পূরণের জন্য তা আবশ্যক ছিল না। ১৯৭১ সালের ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হিসেবে বৈধতা পেয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানের কারাগারে থাকায় শপথ নিতে না পারলেও অস্থায়ী সরকার তাঁর নামে দায়িত্ব পালন করেছে। মুক্তির পর তাঁর আলাদা শপথ গ্রহণ আইনগতভাবে আবশ্যক ছিল না, কারণ ঘোষণাপত্রই তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত করেছিল। তাই তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ না নিয়েও বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।