-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নাম, এক সংগ্রামী সাহসী কণ্ঠস্বর—আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। তিনি শুধু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়কই নন, বরং তিনি এক জননন্দিত প্রতিবাদী নেতা, যিনি অন্যায়, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছেন বারবার। সম্প্রতি তার একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—যেখানে তিনি বলেছেন, “চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশ থেকে চাঁদা নামক গাছটা শিকড়সহ তুলে ফেলতে হবে।” এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি এই দেশের শোষিত মানুষের মনের কথা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা প্রতিবাদের ভাষা। চাঁদাবাজি: সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বিষবৃক্ষ- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ‘চাঁদাবাজি’ আজ এক ভয়ংকর ব্যাধি। ব্যবসায়ী, শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, এমনকি স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্ররাও এই চাঁদার জ্বালায় অতিষ্ঠ। চট্টগ্রাম, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়ায় এই সমস্যা এখানে সবচেয়ে প্রকট। পরিবহন খাতে, বন্দর এলাকায়, নির্মাণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে—সবখানে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী চাঁদাবাজ চক্র নিজের আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসছে দুর্বিষহ পরিস্থিতি। এরশাদ উল্লাহ: সত্য বলার সাহসী কণ্ঠ-এরশাদ উল্লাহ’র মতো নেতারা যখন এই ব্যাধিকে ‘গাছ’ হিসেবে চিহ্নিত করে শিকড়সহ তুলে ফেলার আহ্বান জানান, তখন তা শুধুই রাজনৈতিক বক্তব্য থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে আন্দোলনের ভাষা, পরিবর্তনের সংকেত। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—এই চাঁদাবাজি শুধু উপরের ডালপাতা নয়, এর গভীর শিকড় সমাজ, প্রশাসন ও রাজনীতির ভেতরে গেঁথে আছে। তাই একে সমূলে উৎখাত করতে হলে দরকার জনসচেতনতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নেতৃত্বের দৃঢ়তা। রাজনীতির স্বচ্ছতা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী-এরশাদ উল্লাহ বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, বরং মানুষের অধিকার রক্ষা, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু থেকে এক আদর্শিক অবস্থান ধরে রেখেছেন—যেখানে লোভ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবারের কোনো স্থান নেই। বিএনপির একজন আদর্শিক নেতা হিসেবে তিনি বারবার গণমানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর হয়েছেন। চট্টগ্রামের মানুষ কী চায়? চট্টগ্রামের জনগণ এখন পরিবর্তন চায়—একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। তারা চায় চাঁদাবাজির দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি, প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এই সময়ে এরশাদ উল্লাহ’র মতো সাহসী নেতৃত্বই হতে পারে তাদের ভরসার জায়গা। চট্টগ্রামবাসী জানে, যে মানুষটি নিজেকে চাঁদাবাজি নির্মূলে নিবেদিত করেছেন, তিনি কখনো দুর্নীতির সাথে আপস করবেন না। জিয়া স্মৃতি পরিষদের প্ল্যাটফর্মে দৃঢ় অবস্থান-এই বার্তাটি দিয়েছে জিয়া স্মৃতি পরিষদ, বোয়ালখালী – চট্টগ্রাম শাখা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে এই সংগঠনটি নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার। এরশাদ উল্লাহ’র চাঁদাবাজি বিরোধী বক্তব্য তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, কারণ এটি জিয়ার শাসনামলের মতোই দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার ডাক।
সমাধান কোথায়? চাঁদাবাজির মূল উৎপাটন করতে হলে প্রয়োজন—প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুশাসন ও সুরক্ষা
রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, জনগণের সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা এরশাদ উল্লাহ এসব বিষয়ের প্রতি দায়বদ্ধ। তিনি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান দিতে চান গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা কথায় নয়, কাজে প্রমাণ দিতে পারে তাদের সৎ অবস্থান। আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ একজন সেই রকম নেতৃত্ব, যিনি চট্টগ্রামবাসীর মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন। তাঁর আহ্বান—“চাঁদাবাজির গাছটা শিকড়সহ তুলে ফেলতে হবে”—এটা আজ শুধু চট্টগ্রামের নয়, বরং সারা বাংলাদেশের জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। এই গলা যেন আরও বলিষ্ঠ হয়, এই দাবি যেন গণআন্দোলনে রূপ নেয়—সেই প্রত্যাশা সবার।