নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মহিষ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হামিদুল হক মন্নান অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। চেয়ারম্যান মন্নান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একটি কুৎসিত অপচেষ্টা। আমি কাউকে ভয়ভীতি দেখাইনি, কোনো চাঁদা দাবি করিনি। বরং আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি দায়িত্ব পালন করেছি। স্থানীয়দের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আমি জানতে পারি, তিনটি চোরাই মহিষ পটিয়া উপজেলার কেলিশহর এলাকা থেকে চুরি হয়ে আমাদের এলাকায় আনা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হই, এই মহিষগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুরুল আলমের খামার থেকে চুরি হয়েছে।” তিনি আরও জানান,
“আমি নিজে ওই মহিষগুলো উদ্ধার করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। বর্তমানে মহিষগুলো বোয়ালখালী থানার হেফাজতে রয়েছে। আমি বরাবরই চট্টগ্রামের মানুষের সেবা করেছি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। প্রকৃতপক্ষে আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করেছি। এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” চেয়ারম্যান মন্নান বলেন, “আমি মনে করি—যে এই চুরির সঙ্গে জড়িত, সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি একটি অপরাধ রোধ করেছি, কিন্তু সেই সুযোগে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, পুরো বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করুন।” তিনি এটাও জানান,“চাঁদাবাজির মতো ন্যাক্কারজনক অভিযোগ তুলে আমার সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে। অথচ আমি কারো কাছ থেকে এক টাকাও দাবি করিনি। বরং আমি নিজ উদ্যোগে খোঁজ নিয়ে সাবেক মেয়র মনজুরুল আলমের খামারের মহিষ উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আমার দায়িত্ববোধ থেকেই এ পদক্ষেপ নিয়েছি।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, “মহিষ উদ্ধারের বিষয়ে তদন্ত চলছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি আমরা নিরপেক্ষভাবে দেখছি।” সাবেক চেয়ারম্যান মন্নান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“আমি বিশ্বাস করি, প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনবে এবং যারা মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে হেয় করছে, তাদের উদ্দেশ্যও উন্মোচিত হবে।” বর্তমানে বোয়ালখালীতে চোরা মহিষ উদ্ধারের ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি থাকলেও সাবেক চেয়ারম্যান হামিদুল হক মন্নান এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, কোনো অপরাধীর পক্ষ তিনি নন, বরং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি সদা সচেষ্ট।