প্যাকেজ ব্যবসার আড়ালে পতিতাবৃত্তি, চোলাই মদ ও অস্ত্র সরবরাহে ওয়াসীমের অপরাধ সাম্রাজ্য

3 Min Read

প্রতিনিধি, দৈনিক ভোরের আওয়াজ
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার অন্তর্গত মোহরা কাপ্তাই সড়কে বহুদিন ধরে চলছিল এক গোপন অপরাধ জগতের কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের মুখে যার মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে এক সময়ের তথাকথিত “প্যাকেজ উদ্যোক্তা” ওয়াসীমের নাম। প্যাকেজ অনুষ্ঠান, মিউজিক শো এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার নামে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে পতিতাবৃত্তির এক ভয়ঙ্কর চক্র।
২০০৬-০৭ সালের দিকে ওয়াসীমের বাবা আব্দুস চোবান তার ছেলেকে চান্দগাঁওয়ের গোলাপের দোকানের পাশের মাজারের সামনে তিন কাঠা জমি কিনে দেন। কিছু সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করে ওয়াসীম। বাবার মৃত্যুর পর একেবারে বেকার অবস্থায় পড়ে ওয়াসীম প্রথমে এই জায়গাকে ব্যবহার করতে শুরু করে ‘প্যাকেজ শিল্পী’ সরবরাহের নামে অনুষ্ঠানে মেয়ে পাঠানোর কাজে। এই মেয়েদের বড় একটি অংশ ছিল পেশাদার যৌনকর্মী। দিনের আলোয় প্যাকেজ অনুষ্ঠান, আর সন্ধ্যার পর শুরু হতো মদ্যপান ও দেহ ব্যবসার আসর।
স্থানীয়রা জানায়, এই স্থান ছিল চোলাই মদের এক গোপন কেন্দ্র। কাপ্তাই থেকে সড়কপথে আনা হতো মদের চালান, যা রাতের আঁধারে শহরের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হতো। পাশাপাশি, কর্ণফুলী নদীপথে জলদস্যুদের কাছে অস্ত্র ভাড়ার অভিযোগও উঠেছে ওয়াসীমের বিরুদ্ধে।
দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর প্রতিনিধি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানতে পারেন, ওয়াসীমের সেই পুরনো আস্তানাটি এখন পরিত্যক্ত। তবে স্থানীয় শত শত মানুষের অভিযোগ এবং সাক্ষ্য থেকে স্পষ্ট হয়, বহু বছর ধরে এই জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে পতিতাবৃত্তি ও মাদক ব্যবসার নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে।
প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাতে মীম নামের এক নারী জানান, তিনি ২০০৬-০৭ সাল থেকে ২০১১-১২ সাল পর্যন্ত ওয়াসীমের পরিচালিত প্যাকেজ ব্যবসার আড়ালে থাকা পতিতালয়ে কাজ করতেন। তার দাবি, এটি শুধু যৌনপেশা নয়, বরং অস্ত্র বেচাকেনা এবং ডাকাত চক্রকে সহযোগিতার একটি কেন্দ্র ছিল।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন কয়েকজন স্থানীয় সচেতন নাগরিক। তাদের মতে, ওয়াসীম বর্তমানে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তার চোলাই মদ ও গরু চুরির ব্যবসা এখনো চালু আছে। অভিযোগ রয়েছে, এখনো তার দখলে কয়েকটি অস্ত্র রয়েছে, যা চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
বোয়ালখালী ও চরণদ্বীপের সাধারণ মানুষরা এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন—ওয়াসীমের বিরুদ্ধে যদি সঠিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে চট্টগ্রামের অপরাধচক্রের একটি বড় অংশের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা ওয়াসীমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রয়োজনে আমি এই লেখার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ কিংবা প্রিন্টযোগ্য ডিজাইনে তৈরি করে দিতে পারি। আপনি কি সেটি চান?

Share This Article
Leave a Comment